kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

দৈনন্দিন ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যক্তির আয়-রোজগারে কার কার হক আছে?

প্রশ্ন : এক ব্যক্তির বাবা নেই, মা জীবিত। তিনি ছোট ছেলের সঙ্গে গ্রামে থাকেন। মা ও ভাই-বোনরা আর্থিকভাবে সচ্ছল। এ অবস্থায় ওই ব্যক্তির আয়-রোজগারে  মা-বাবা, ভাই-বোনসহ নিকটাত্মীয়দের কোনো হক আছে? থাকলে কী পরিমাণ আছে?

আব্দুল হামিদ, তেজগাঁও

উত্তর : মা-বাবা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলে তাঁদের ভরণ-পোষণের ব্যয়ভার গ্রহণ করা সন্তানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব, যা পালন করা আবশ্যক। অন্যথায় সন্তান গুনাহগার হবে। অনুরূপভাবে ভাই-বোন তথা রক্তের বন্ধন সম্পর্কীয় মাহরাম যাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম, এমন আত্মীয়দের কেউ যদি দরিদ্র এবং উপার্জনে অক্ষম হয়, তাহলে তাকে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করাও জরুরি। তবে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হলে তাদের সাহায্য করা জরুরি নয়; কিন্তু তা বড়ই পুণ্যের কাজ। অতএব প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার মা, ভাই-বোন ও রক্ত সম্পর্কীয় মাহরাম আত্মীয়স্বজনরা যদি অর্থনৈতিকভাবে পরিপূর্ণ সচ্ছল হয় এবং আপনার সাহায্যের প্রয়োজন না হয় এ অবস্থায় আপনার আয়-রোজগারে তাদের অনিবার্য হক না থাকলেও যথাসম্ভব মায়ের প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠানো উচিত। (আদ্দুররুল মুখতার : ৩/৬২১, রদ্দুল মুহতার : ৩/৬২৩, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১২/১৪৪)

 

সুন্নতের নিয়তে লাঠি ব্যবহার করা

প্রশ্ন : বয়স বেশি হওয়ার কারণে শারীরিক দুর্বলতা চলে আসে, তাই লাঠি নিতে হয়। এমন বয়স্ক লোকের জন্য লাঠি ব্যবহার করা সুন্নত কি না? যুবক ব্যক্তির সুন্নতের নিয়তে লাঠি ব্যবহার করা কি সুন্নত? যৌবনে সুন্নতের নিয়তে লাঠি ব্যবহার করলে সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে?

নেজামুদ্দিন, ফেনী

উত্তর : সুন্নতের নিয়তে লাঠি ব্যবহার করলে সওয়াব পাওয়া যাবে। এতে বয়সের কোনো ভেদাভেদ নেই। (মুসনাদে আহমদ : ২৩৯৭২, তাফসিরে কুরতুবি : ১১/১৮৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৬/১৩৭)

 

মায়ের পিত্রালয় থেকে পাওয়া সম্পদে ছেলেমেয়ের অংশ

প্রশ্ন : মা তাঁর পিত্রালয় থেকে যে সম্পদ পেয়ে থাকেন তা কি শুধু কন্যাসন্তানদের মধ্যে বণ্টন হবে, নাকি ছেলেরাও ভাগ পাবে?

মহসিন, কাঁচপুর

উত্তর : মা মারা যাওয়ার পর তাঁর মালিকানা সব সম্পত্তির প্রতিটি অংশেই ছেলেমেয়ে সবাই অংশ পাবে। মেয়েরা ছেলেদের অর্ধেক পাবে। (সুরা নিসা, আয়াত : ১১, আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৭৬২, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১২/৪৫১)

 

মুসাফির কি জুমার ইমামতি করতে পারবেন?

প্রশ্ন : কোনো মুসাফির আলেম কোথাও সফরে এলে স্থানীয়রা ওই আলেমকে দিয়ে যদি জুমার নামাজ আদায় করে নেয় তাদের নামাজ সহিহ হবে কি? যেহেতু ওই আলেম মুসাফির হওয়ার কারণে তাঁর ওপর জুমা ওয়াজিব নয়।

সাইফুর রশীদ, যশোর

উত্তর : মুসাফির আলেম জুমার নামাজ পড়ালে কোনো অসুবিধা নেই, সবার নামাজ সহিহ হবে। মুসাফিরের ওপর জুমা ওয়াজিব নয়—এর অর্থ হলো জুমা না পড়লে গুনাহগার হবে না। (হিন্দিয়া : ১/১৪৮, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ৫/৭৫)

 



সাতদিনের সেরা