kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

দৈনন্দিন ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব সময় অমুককে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছাবে

প্রশ্ন : অনেকে অনেক সময় বলে থাকে যে আমার পক্ষ থেকে অমুকের কাছে সব সময় সালাম পৌঁছাবে, আমি বলি বা না বলি। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের কথা বলে যাকে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব দিয়েছে, তাকে কতবার সালাম পৌঁছাতে হবে? এভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকটি যতবার সালাম পৌঁছাবে, দায়িত্বদাতা কি ততবার সালামের সওয়াব পাবে? আর প্রতিবার তার সালামের উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব?

মহসিন, নোয়াখালী

উত্তর : কেউ সালাম পৌঁছানোর দায়িত্ব দিলেই তা পৌঁছানো ওয়াজিব হয়ে যায় না; বরং পৌঁছানোর ওয়াদা করলে ওয়াজিব হয়। যে পরিমাণ ওয়াদা করে সে পরিমাণ ওয়াজিব হবে এবং তার সওয়াব পাবে। যার পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় করা হয় সেও সওয়াব পায়। (হিন্দিয়া : ৫/৩২৬, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪১৫, আদাবুল মুআশারাত : ৪৪)

বৃদ্ধদের বিবেচনায় ফজরের কিরাত ছোট করা

প্রশ্ন : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ফজরের নামাজে তিওয়ালে মুফাসসাল তিলাওয়াত করে থাকেন। এতে অধিকাংশ মুসল্লি সন্তুষ্ট থাকলেও কয়েকজন বৃদ্ধ মুসল্লি আপত্তি করছেন। তাঁরা বলেন যে আমরা এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। সুতরাং কিরাত সংক্ষিপ্ত করা হোক। এ নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে পরস্পর মতপার্থক্য দেখা দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, কয়েকজন মুসল্লির খাতিরে কিরাত সংক্ষিপ্ত করলে সওয়াব বেশি হবে, নাকি কিরাত নিয়ম অনুসারে পড়বে? আর যাঁরা বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, তাঁরা বসে কিরাত শুনলে সওয়াব বেশি হবে?

হাসিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর

উত্তর : দুর্বল বৃদ্ধলোকদের খাতিরে নামাজের মাসনুন কিরাত বাদ দেওয়ার অনুমতি নেই। তবে  তাঁদের খাতিরে ফজরের নামাজে তিওয়ালে মুফাসসালের মধ্যে তুলনামূলক ছোট সুরাগুলো, যেমন : সুরা ইনফিতার, ইনশিকাক, বুরুজ অথবা বড় সুরা থেকে চল্লিশ আয়াত পরিমাণ পড়া যায়। যদি অসুস্থ বা বৃদ্ধ মুসল্লিগণ ওই পরিমাণ দাঁড়াতে না পারেন, সে পরিমাণ বসে আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার : ১/৫৩৯, হিন্দিয়া : ১/১৩৬, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৩২৩)

বড়দের সামনের কাতারে নাবালকদের অবস্থান

প্রশ্ন : জামাতের কাতার পুরা না হলে প্রাপ্ত বয়স্কদের সঙ্গে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দাঁড় করানো বা অপ্রাপ্ত বয়স্করা প্রাপ্ত বয়স্কদের সামনের কাতারে দাঁড়ালে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে?

মোখতার, চুয়াডাঙা

উত্তর : নাবালক ছেলে একজন হলে বড়দের কাতারে দাঁড়াতে পারবে, আর দুই বা ততোধিক থাকলে বড়দের পেছনে থাকবে। পরবর্তী সময়ে আগত লোকের সম্ভব হলে সামনে চলে যাবে, না হয় পেছনেই থাকবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৫৭১, রদ্দুল মুহতার : ১/৫৭১)

সন্তানের নামে কসম করা

প্রশ্ন : একজন লোক মানুষকে তার কথা বিশ্বাস করানোর জন্য কথায় কথায় তার সন্তানের নামে কসম করে। কেউ যদি তার সন্তানের নামে কসম করে এবং পরবর্তী সময়ে সেই কসম না রাখতে পারে, তাহলে তার কাফফারা দিতে হবে কি?

মুআজ, যাত্রাবাড়ী

উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ তাআলার নাম ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করলে তা কসম হিসেবে গণ্য হয় না। তাই সন্তানের নামে কৃত কসম শুদ্ধ হয়নি। সুতরাং তা ভঙ্গের প্রশ্নই আসে না। তবে এ ধরনের কসমের জন্য তাওবা করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৭০৫, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৭/৩৫৬)



সাতদিনের সেরা