kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

অন্য প্রাণীর অবয়ব গ্রহণ করার বিধান

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অন্য প্রাণীর অবয়ব গ্রহণ করার বিধান

বাঘের অবয়বধারী মার্কিন নাগরিক ডেনিস অ্যাভনার

শয়তান মানুষকে সব সময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে রাখতে চায়। অলসতা, উদাসীনতা ও পাপাচারের সাগরে ডুবিয়ে রাখতে চায়। মানুষকে পথভ্রষ্ট করে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে রাখাই শয়তানের মূল লক্ষ্য। তাই সে মানুষের মনে সর্বদা পাপের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। মানুষের মধ্যে উদ্ভট ইচ্ছা জাগায়, যারা তার ফাঁদে পা দেয়, তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

কারণ শয়তানের এই ফাঁদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ আগেই তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। ‘আল্লাহ তাকে (শয়তানকে) অভিসম্পাত করেছেন এবং সে (শয়তান) বলেছে, আমি তোমার দাসদের এক নির্দিষ্ট অংশকে (নিজের দলে) গ্রহণ করবই। এবং তাদের পথভ্রষ্ট করবই; তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করবই, আমি তাদের নিশ্চয় নির্দেশ দেব, ফলে তারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করবেই এবং তাদের নিশ্চয় নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবেই। আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১৮-১১৯)

উপরোক্ত আয়াতে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মানুষের যে কয়টি কাজে লিপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো, আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করা। বিভিন্ন কৃত্রিম উপায়ে চেহারা বা শরীরের সৃষ্টিগত সুন্দর রূপকে পরিবর্তন করে ফেলা, যা মূলত বিভিন্ন পৌত্তলিকরা শয়তানের পূজা করতে গিয়ে করত। বর্তমান যুগে তা অনেকে ফ্যাশনের উদ্দেশ্যে বা শখের বসে করে।

সম্প্রতি একজন আমেরিকান নাগরিকের মানুষ হয়ে জন্তুর মতো অবয়ব পাওয়ার ইচ্ছা জেগেছে! বাঘের মতো চেহারা পেতে তিনি খরচ করেছেন দুই লাখ মার্কিন ডলার। বাঘের মতো অবয়ব পেতে তিনি তাঁর মুখ ও শরীরে বাঘের মতো ডোরাকাটা ট্যাটু করেন। এরপর সার্জারির মাধ্যমে মুখের ইমপ্লান্টে ভ্রু, কপাল ও তার নাকের আকৃতি পরিবর্তন করেন।

এরপর তিনি সেপ্টাম স্থানান্তরের মাধ্যমে নাক চ্যাপ্টা করার সিদ্ধান্ত নেন। এ ছাড়া তার ঠোঁট, গাল ও চিবুকে সিলিকন ইনজেকশনও দেন। সার্জারির মাধ্যমে তাঁর ওপরের ঠোঁট কেটে পরিবর্তন আনেন। এমনকি তিনি সব সময় একটি রোবোটিক লেজ পেছনে নিয়ে ঘোরেন। তাঁর ভবিষ্যতের পরিবর্তন পরিকল্পনার মধ্যে ছিল তাঁর মাথার ওপরে ইমপ্লান্ট করার পরিকল্পনা ও বাঘের মতো কান লাগানোর জন্য।

অনেকের মনে হতে পারে, মানুষ তার শরীরের মালিক, তার শরীর সে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বিকৃত করতে পারে, সাজাতে পারে, এটা একান্তই তার অধিকার। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হয়তো আরো অনেকেই বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব গ্রহণ করার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু ইসলাম বলছে, মানুষ চাইলে তার শরীরে বিকৃতি ঘটাতে পারে না। এটা শয়তানের কাজ। এর জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাদের ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অভিসম্পাত রয়েছে।

আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন ওই সব নারীর প্রতি, যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকন করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকন করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু-চুল উপড়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সেসব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৮৮৬)

আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যে নারী উল্কি আঁকে, দাঁতে ফাঁক সৃষ্টি করে এবং যে মুখের (ভ্রু) চুল তুলে ফেলে, আর এভাবে আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে, তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৫২৫৩)

মহান আল্লাহ সবাইকে এই উদ্ভট ও ঘৃণ্য কাজগুলো থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।

 



সাতদিনের সেরা