kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

যেসব কাজে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট হয়

আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.)   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিকিরকারী ব্যক্তির এমন সব কাজ ও কথা থেকে দূরে থাকা উচিত যা দ্বারা মন অস্থির ও বিক্ষিপ্ত হয়। কেননা মনের প্রশান্তি ও স্থিরতা অনেক বড় সম্পদ। মনের একাগ্রতা নষ্টকারী বহু বিষয় আছে। তার কয়েকটি হলো—

১. স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকা : নিজের অসতর্কতার ফলে স্বাস্থ্য খারাপ করা। ইবাদতে একাগ্রতা ধরে রাখতে শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখা আবশ্যক। মস্তিষ্ক সজীব রাখা এবং মনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এত কম খাদ্য গ্রহণ না করা যাতে শরীর দুর্বল ও শুষ্ক হয়ে যায়। আবার এত বেশি না খাওয়া যাতে বদহজম হয়। ঘুমের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।

২. খাবারের লোভ : বিনা প্রয়োজনে উন্নত খাবারের চিন্তায় লিপ্ত হলেও মন অস্থির হয়।

৩. অনর্থক সাজসজ্জা : অর্থহীন সাজসজ্জাও মানুষের মন অস্থির করে তোলে। কোনো এক কবি বলেন, ‘এত সাজসজ্জা ও পেটপূজার চিন্তার ফলে দ্বিন বিদায় নেবে।’ তবে একেবারে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকাও খারাপ। কেননা এতে অন্তর ময়লা হয়ে যায়। সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়। তবে চিন্তাভাবনা ছাড়া যদি ভালো খাবার ও ভালো পোশাক পাওয়া যায় এবং এর ফলে নফসের মধ্যে কোনো মন্দ চরিত্র সৃষ্টির ভয় না থাকে, তবে তাকে আল্লাহর অনুগ্রহ মনে করে ব্যবহার করা এবং তার কৃতজ্ঞতা আদায় করা উচিত।

৪. সম্পদের মোহ : সম্পদের মোহ ও তা সঞ্চয়ের চিন্তা মানুষের একাগ্রতা নষ্ট করে। একইভাবে সম্পদের অপব্যয়ও মানুষকে অস্থির করে তোলে। সম্পদ আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাই উত্তম।

৫. বন্ধুত্ব ও শত্রুতা : কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব ও শত্রুতায় জড়ালেও মানুষের একাগ্রতা নষ্ট হয়। বন্ধু তার সময় নষ্ট করে আর শত্রু তাকে ভয়ের মধ্যে ফেলে দেয়।

এভাবে যেসব বিষয় মানুষকে অস্থির করে তোলে, অথচ তা আবশ্যক ও প্রয়োজনীয় কিছু নয়, তা থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা জরুরি। তবে পেরেশানির কাজ না করেও কোনো পেরেশানির মধ্যে পড়ে যায় বা শরয়ি প্রয়োজনে কোনো কাজ করার পর পেরেশানি দেখা দেয়। কোনো সুদখোর ব্যক্তির উপহার প্রত্যাখ্যানের ফলে তার সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হওয়া। এমন অস্থিরতার সময়ে অস্থির না হয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা।

এমন অস্থিরতা ব্যক্তির আধ্যাত্মিক কোনো ক্ষতি হয় না। বরং সে আল্লাহর সাহায্য লাভ করে। যদি সে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে এর বিনিময় প্রত্যাশা করে, তবে আশা করা যায় আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন।

 

            ‘কাসদুস-সাবিল’ থেকে হাবিবা রহমান উজরার ভাষান্তর



সাতদিনের সেরা