kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

নেতিবাচক প্রচারণায় ইসলামের প্রতি আগ্রহ

নওমুসলিমের কথা

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেতিবাচক প্রচারণায় ইসলামের প্রতি আগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ডেভিড প্রেডারেলি গত শতকের নব্বইয়ের দশকে ইসলাম গ্রহণ করেন। আধ্যাত্মিকতার অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইসলামের সন্ধান পান। ইসলামের নিখাদ একত্ববাদী বিশ্বাস এবং ভারসাম্যপূর্ণ আধ্যাত্মিক মতবাদ তাঁকে মুগ্ধ করে। কোনো মুসলিমের আহবান ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিম হন। নিজের ইসলাম গ্রহণ বিষয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ একটি সাময়িকীতে এই সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন

আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা একটি রোমান ক্যাথলিক পরিবারে। কিন্তু অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির অধ্যাত্ম্যবাদের প্রতি আমার প্রবল আকর্ষণ ছিল। ইসলামের পথে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, যখন আমি মহান স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হই। আমি চাচ্ছিলাম জন্মগত অবস্থা ও পরিচয়ের বাইরে আমি যেন আমার প্রকৃত আত্মপরিচয় ও আত্মিক পরিশুদ্ধতা লাভ করি। আমি কিছু সময় ক্যাথলিকদের একটি বিশেষ ধারা, যাদের ফ্রান্সিসক্যানস বলা হয় তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমার বহু বন্ধু ছিল এবং আমি প্রার্থনা করতে ভালোবাসতাম। কিন্তু বিষয়টি আমার কাছে ধর্মীয় বিষয়ে শিথিলতা বলেই মনে হতো এবং দৃষ্টিতে তাতে যথেষ্ট অহমিকা ও ভণ্ডামি রয়েছে। ফলে আমি আধ্যাত্মিকতার চর্চা থেকে ধর্মহীনতার দিকে ফিরে গেলাম। কিছুদিন পর আবারও মনের ভেতর আল্লাহর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রবল হয়।

এক রাতে আমি টেলিভিশনে সংবাদ দেখছিলাম। অন্য দিনের মতোই মুসলিমদের ব্যাপারে একপেশে ও অর্ধসত্য সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছিল, তাদের তুলে ধরা হচ্ছিল উগ্র ও সন্ত্রাসী হিসেবে। আমি বহু আগেই নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম যে সংবাদমাধ্যমগুলোর কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই, তারা যেকোনো বিষয়ে এমন ‘সরস গল্গ’ তৈরি করে, যা কাউকে চরম ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। মিডিয়ার বক্তব্য আমি সাধারণভাবেই প্রত্যাখ্যান করতাম। ফলে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ইসলাম বিষয়ে গবেষণা করব এবং নিজেই সিদ্ধান্ত নেব। আমি যা খুঁজে পেলাম তা হলো—নেতিবাচক চিত্রগুলো শয়তানি মিডিয়াগুলো ছড়িয়েছে। আমি এমন একটি ধর্ম খুঁজে পাই, যার সঙ্গে ভালোবাসা, আধ্যাত্মিক সত্য ও অবিনশ্বর স্রষ্টার গভীর সম্পর্ক আছে। আমি কোরআনের একটি অনুলিপি সংগ্রহ করে গভীর মনোযোগসহ তা অধ্যায়ন শুরু করি। কোরআন আমার চোখ খুলে দিল। ফলে আমি আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি ও তাঁর অনুগ্রহের কথা জানতে পারলাম। আমি অনুভব করলাম কোরআনের প্রতি দিন দিন আমার আকর্ষণ বাড়ছেই। কেননা এত দিন যেসব বিষয় নিয়ে ভাবতাম তা কোরআনে খুঁজে পেয়েছি। খ্রিস্টবাদসহ কোনো ধর্মই আমাকে এতটা প্রভাবিত করতে পারেনি। আমি অনুভব করলাম—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমাকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা আল্লাহর স্মরণে মগ্ন রাখতে পারে। সারা জীবন আমি যে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও আত্মিক পরিশুদ্ধি লাভের পথ খুঁজছিলাম তা পেয়ে গেলাম। শেষ পর্যন্ত কোনো মুসলিম নারী বা পুরুষ আমাকে ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়ার আগেই আমি নিজেই মসজিদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। আল-হামদুলিল্লাহ, এখন আমি একজন ধার্মিক মুসলিম। আমি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। এখন আমি আল্লাহর নিখাদ একত্ববাদে বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি, ঈসা (আ.) আল্লাহর পুত্র বা তাঁর সমকক্ষ কেউ নন। তিনি আল্লাহর সম্মানিত নবী। যাঁকে আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-এর মতো নবী হিসেবে প্রেরণ করেছিলাম। তাঁদের সবার দায়িত্ব ছিল মানুষকে আল্লাহর পথে আহবান করা এবং মানুষের মাঝে ধর্মের আলো ছড়িয়ে দেওয়া।

ইসলামিক ওয়েব থেকে

আবরার আবদুল্লাহর ভাষান্তর



সাতদিনের সেরা