kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

তাওয়াক্কুলের আট উপকারিতা

একজন মুমিন তার জীবনের সব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে ভরসাস্থল মনে করে। আরবিতে যাকে বলা হয় তাওয়াক্কুল। মুমিনের জীবনাচারে এই তাওয়াক্কুলের চর্চা করতে হয় সর্ববিষয়ে। আল্লাহর ওপর আস্থা যার যত বেশি, ঈমানের পরিপূর্ণতায় সে তত অগ্রগামী। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর ওপরই তাওয়াক্কুল করো, যদি তোমরা মুমিন হও।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২৩)। এখানে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা করার কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরেছেন মুফতি ইবরাহিম সুলতান

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাওয়াক্কুলের আট উপকারিতা

সব বিষয়ে আল্লাহ যথেষ্ট হয়ে যান : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)

প্রশান্তি লাভ : আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থার মাধ্যমে মানুষ মানসিক অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তে দোদুল্যমানতা থেকে মুক্ত থাকে। মানসিক চিকিৎসক যদি তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারত, তাহলে তারা এটাকে চিকিৎসার সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দিত। মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তিরা শুধু তাওয়াক্কুলের পন্থা অবলম্বন করেই অন্তরের প্রশান্তি ও আল্লাহর সঙ্গলাভের অনুভূতি অর্জন করতে পারে। ইরশাদ হয়েছে, ‘বস্তুত, যারা ভরসা করে আল্লাহর ওপর, তারা নিশ্চিন্ত। কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৪৯)

শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় : আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের আরো একটি পুরস্কার হলো, তিনি মুমিনদের তার শত্রুর ওপর জয়ী হওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। পরিবেশকে তাদের অনুকূল করে দেন। যেমন—যুদ্ধের ময়দানে সাহাবায়ে কেরামের তাওয়াক্কুল ও শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার অবস্থা তুলে ধরে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাদেরকে লোকেরা বলেছে যে তোমাদের সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য মানুষ জড়ো করেছে বহু সাজ-সরঞ্জাম; তাদের ভয় করো। তখন তাদের বিশ্বাস আরো দৃঢ়তর হয়ে যায় এবং তারা বলে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। কত চমৎকার কামিয়াবি দানকারী। অতঃপর মুসলমানরা ফিরে এলো আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে, তাদের কোনো অনিষ্ট হলো না। তারপর তারা আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত হলো। বস্তুত, আল্লাহর অনুগ্রহ অতি বেশি।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৭৩-১৭৪)

অকল্পনীয় রিজিক প্রদান : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তাআলার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয় সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেওয়া হতো। এরা সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যাবেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৪৪)

বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ : ইমরান (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের ৭০ হাজার লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, তারা কারা, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যারা ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে লাগায় না এবং (জাহেলি যুগের মতো) ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্রের দ্বারা চিকিৎসা কামনা করে না। বরং তারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করে। (মুসলিম, হাদিস : ৪১২)

আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

শয়তানের অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়াটি পড়ে, উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। অর্থ : আমি আল্লাহ তাআলার নামে বের হলাম। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা কোনো নেক কাজ করা সম্ভব নয়। তাহলে তাকে বলা হবে, আল্লাহ তোমার জন্য যথেষ্ট হবেন, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। আর শয়তান ওই ব্যক্তি থেকে দূরে সরে যায়। এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তোমাকে সঠিক পথ দেখাবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৬)

 

আল্লাহ আমাদের সব বিষয়ে তাঁর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা রাখার তাওফিক দান করুন।



সাতদিনের সেরা