kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

মানুষের প্রতি পবিত্র কোরআনের দাবি

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিছু মানুষ নিজের অবিশ্বাস ও ধর্মবিদ্বেষ নিয়ে ক্ষান্ত থাকে না। কোরআনের শিক্ষা থেকে দূরে রাখতে যারপরনাই কোশেশ করে। কোরআনের অবমাননা করে। মানুষকে কোরআনবিমুখ করে। কোরআনের বেশ কিছু দাবি আছে, যেগুলো পালন করা আবশ্যক। সে দাবিগুলো হলো—

এক. ঈমান আনা। ইরশাদ হয়েছে, ‘...তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো, আর কিছু অংশ অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া তাদের কী প্রতিদান হতে পারে! আর কিয়ামতের দিন তাদের কঠিন আজাবে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফিল নন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৮৫)

দুই. বিশুদ্ধভাবে কোরআন পাঠ করা ও তা শেখা ফরজ। ইরশাদ হয়েছে, ‘...আর কোরআন তিলাওয়াত করো ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে।’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ৪)

তিন. কোরআন তিলাওয়াত করা কোরআনের অন্যতম হক। এ নির্দেশনা কোরআনে এসেছে এভাবে : ‘তোমার প্রতি যে কিতাব ওহি হিসেবে অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত করো।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)

চার. কোরআনের অন্যতম হক হলো তা অন্যকে শিক্ষা দেওয়া। ইরশাদ হয়েছে, ‘অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের প্রতি একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে তাঁর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে এবং তাদের পরিশুদ্ধ করে আর তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়। যদিও তারা এর আগে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৪)

পাঁচ. হিফজ বা মুখস্থ করা। কোরআন হিফজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহ নিজেই কোরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। এর প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি মানুষকে কোরআন হিফজ করার তাওফিক দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি, আর আমিই তার হেফাজতকারী।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৯)

ছয়. কোরআনের অর্থ বোঝা ও অনুধাবন করা কোরআনের অন্যতম দাবি। কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কোরআনরূপে নাজিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ২)

সাত. কোরআন অনুযায়ী নিজের জীবন গড়া। এ বিষয়ে কোরআনের নির্দেশনা হলো, ‘তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাজিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ কোরো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩)

আট. কোরআনের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। ইরশাদ হয়েছে, ‘যাদের আমি কিতাব দিয়েছি, তারা যথাযথভাবে তা পাঠ করে। তারাই তাতে ঈমান আনে। আর যে তা অস্বীকার করে, সে-ই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২১)

 



সাতদিনের সেরা