kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্বনবীর ভবিষ্যদ্বাণী-৩

কিয়ামতের আগে জুতা কথা বলবে

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিয়ামতের আগে জুতা কথা বলবে

রাসুল (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে কিয়ামতের আগে প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বর্তমান যুগে আমরা তার বাস্তব রূপ দেখতে শুরু করেছি। তবে এই উত্কর্ষতার শেষ কোথায়, তা অনুমান করা দুষ্কর। বর্তমানে আমরা যে প্রযুক্তিগুলো দেখছি, তার অনেকগুলোই রাসুল (সা.)-এর অনেক হাদিসের সঙ্গে মিলে যায়। তবে রাসুল (সা.) যে ঠিক এই প্রযুক্তির ভবিষ্যদ্বাণীই করে গেছেন, তা নিশ্চিত বলা যাবে না। হতে পারে বর্তমান যুগে এই প্রযুক্তিগুলোর সূচনা হয়েছে, কিয়ামতের আগে এগুলো আরো বহু গুণ উন্নত হবে।

আবু সাঈদ আল খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না হিংস্র প্রাণী মানুষের সঙ্গে কথা বলবে, যে পর্যন্ত না কারো চাবুকের মাথা এবং জুতার ফিতা তার সঙ্গে কথা বলবে এবং তার ঊরুদেশ বলে দেবে তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার কী করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২১৮১)

প্রিয় নবী (সা.)-এর এই হাদিসে বেশ কিছু জিনিস নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী আছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো, কিয়ামতের আগে জুতা মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। একটা সময় মানুষের কাছে এই বিষয়টি কল্পনার মতো মনে হতো; কিন্তু বর্তমান যুগে এটি সম্ভব। বাজারে এখন অনেক অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসংবলিত জুতা পাওয়া যায়, যেগুলো মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে সিগন্যাল দেয়, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়, এমনকি বিপদের আশঙ্কা অ্যানালিসিস করে মানুষের হাঁটা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে স্মার্ট সু তৈরি করলেন অস্ট্রিয়ার একদল উদ্যোক্তা। বিশেষ এই জুতায় এমন সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সামনে কোনো বাধা দেখলেই এটি সংকেত দেবে ব্যবহারকারীকে। ফলে কারো সহায়তা ছাড়াই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক-ইনোভেশন উদ্ভাবন করেছে ‘ইনোমেক’ নামের এই স্মার্ট সু।

এ ছাড়া কিছু স্মার্ট জুতা আছে, খেলোয়ারদের জন্য বানানো হয়, যেগুলো পায়ের অবস্থান ও সাইজ অনুযায়ী সয়ংক্রিয়ভাবে জুতার ফিতা বেঁধে ও ঠিক করে দিতে পারে। রাইডারদের জন্য বানানো বিশেষ স্মার্ট সুগুলো মানুষের যাতায়াতের সব তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বাইকের ইন্ডিকেটরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জুতার লাইট জ্বালিয়ে রাইডারের গতিবিধি সম্পর্কে অন্য গাড়িকে সিগন্যাল দিতে পারে। 

এমনকি গুগল তৈরীকৃত ‘টকিং সু’ রীতিমতো মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারে। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এসএক্সএসডাব্লিউ সম্মেলনে গুগল এ প্রযুক্তির জুতা দেখিয়েছে। টেক ক্রাঞ্চের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্য হিসেবে জুতা নিয়ে পরীক্ষা করছে গুগল। গুগলের তৈরি এই প্রযুক্তি জুতা কথা বলতে পারে এবং অ্যান্ড্রয়েড পণ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। জুতার সঙ্গে আছে অ্যাকসেলোরোমিটার, জাইরোস্কোপের মতো নানা সেন্সর ও ব্লুটুথ প্রযুক্তি। এ জুতা পায়ে থাকলে তা স্বয়ংক্রিয় নানা তথ্য সংগ্রহ করে এবং মাঝেমধ্যে উচ্চ স্বরে কথা বলে ওঠে, এমনকি এ জুতা গুগল প্লাসে মন্তব্যও পাঠাতে পারে।

উল্লেখ্য, গুগলের তৈরি এই জুতার কথা বলার স্পিকার ও সেন্সরগুলো জুতার ফিতার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় হওয়ায় এই জুতাটি হাদিসে উল্লিখিত জুতার বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়। তবে প্রিয় নবী (সা.) এই জুতাটির ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, তা দাবি করা যাবে না। হতে পারে এর চেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কিয়ামতের আগে চলে আসবে।



সাতদিনের সেরা