kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইসলামে কন্যাসন্তান প্রতিপালনের পুরস্কার

সাইফুল ইসলাম তাওহিদ   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কন্যাসন্তান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনেক বড় নিয়ামত। সঠিকভাবে লালন-পালন করে গড়ে তোলা গেলে কন্যাসন্তান মা-বাবার জন্য আখিরাতে নাজাতের অসিলা। জাহেলিযুগে কন্যাসন্তান নিয়ে কুপ্রথা চালু ছিল। ইসলাম এসে তা বিলুপ্ত করে দেয়। ইসলাম কন্যাসন্তানকে যথাযথ সম্মান ও অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ দেয়। তাদের মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যা হিসেবে সম্মান ও অধিকার প্রদান করে।

জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানদের অবস্থা : জাহেলি যুগে সাধারণ পরিবারগুলোতে কন্যাসন্তানকে কুলক্ষণের প্রতীক মনে করা হতো। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করা তাদের জন্য লজ্জার কারণ ছিল। কখনো কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাদের জীবিত করব দেওয়া হতো। তাদের মিরাসি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হতো। সে যুগে কন্যা হয়ে জন্ম নেওয়াই ছিল যেন আজন্ম পাপ। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে জাহেলি যুগের এই বর্বতার বিবরণ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তান (জন্মগ্রহণ)-এর সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং সে মনে মনে দুঃখক্লিষ্ট হতে থাকে। সে এ সুসংবাদকে খরাপ মনে করে দুঃখে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে নিজের কাছে রেখে দেবে, না তাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফায়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)

ইসলাম এসে জাহেলি প্রথা বিলুপ্ত করে। কন্যাসন্তানকে যথাযথ সম্মান ও অধিকারে ঘোষণা দেয়। তাদের মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যা হিসেবে সম্মান ও অধিকার প্রদান করে। ইসলামে কন্যাসন্তান লালন-পালনের অনেক ফজিলত রয়েছে। নিম্নে কোরআন-হাদিসের আলোকে তা তুলে ধরা হলো—

জান্নাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গ লাভ : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন,  ‘যে ব্যক্তি দুটি কন্যাসন্তানকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দুটি আঙুলের মতো পাশাপাশি থাকব। এই কথা বলে রাসুল (সা.) তার আঙুলগুলো মিলিত করে দেখালেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬৩১)

জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম বা অসিলা : আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার ঘরে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করল, অতঃপর সে ওই কন্যাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ের ওপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ১৯৮৫)। অন্য  হাদিসে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কারো যদি তিনটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে অথবা দুটি মেয়ে বা বোন থাকে, আর সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সঙ্গে সদাচার করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ১১৪০৪)

জাহান্নাম থেকে মুক্তির অসিলা : আউফ বিন মালেক আশজায়ি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের ওপর সে অর্থ খরচ করে বিয়ে দেওয়া অথবা মৃত্যু পর্যন্ত, তবে তারা তার জন্য আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। তখন এক নারী বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আর দুই মেয়ে হলে? তিনি বলেন, দুই মেয়ে হলেও।’ (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৮৩১৩)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তিকে কন্যাসন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে সেই কন্যাসন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড়াল হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৩)



সাতদিনের সেরা