kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিভিন্ন নবীর আমলে মসজিদ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মসজিদ মানে সিজদা করার স্থান বা ইবাদতগৃহ। আগের উম্মতের ইবাদতের স্থানও মসজিদ বলে আল্লাহ কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করেছেন। পৃথিবীর প্রথম মসজিদ হলো মক্কায় অবস্থিত মসজিদে হারাম বা বায়তুল্লাহ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রথম ইবাদতগৃহ, যা মানবজাতির জন্য মক্কায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি বরকতমণ্ডিত এবং বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৯৬)

আবু জার গিফারি (রা.) বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেন, মসজিদে আকসা। আমি বললাম, এই দুইয়ের নির্মাণের মাঝখানে ব্যবধান কত? তিনি বলেন, ৪০ বছরের।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩৬৬)

আসহাবে কাহাফের সময়ে মসজিদ নির্মাণ হয়েছিল। সে প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘এভাবে আমি (আল্লাহ) তাদের বিষয়টি প্রকাশ করে দিলাম। যাতে লোকেরা জানতে পারে যে আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামতের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। অতঃপর যখন লোকেরা তাদের করণীয় বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করল, তখন তারা বলল, তাদের গুহামুখে তোমরা একটা প্রাচীর নির্মাণ করো (যাতে ওটা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়)। কেননা, তাদের বিষয়ে তাদের রব ভালো জানেন। তবে তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল ছিল তারা বলল যে আমরা অবশ্যই তাদের ওপর একটা মসজিদ নির্মাণ করব।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ২১)

 

বায়তুল মুকাদ্দাস সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম করলে নিজেদের জন্যই সেটা করবে। আর মন্দকর্ম করলে সেটাও নিজেদের জন্য। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত দ্বিতীয় সময় এসে গেল, (তখন অন্য বান্দাদের প্রেরণ করলাম) যাতে তারা তোমাদের মুখমণ্ডল কালিমালিপ্ত করে দেয় এবং যাতে তারা মসজিদে (বায়তুল মুকাদ্দাসে) ঢুকে পড়ে, যেমন—প্রথমবার ঢুকেছিল এবং যেখানেই জয়ী হয় সেখানেই পুরোপুরি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।’ (সুরা ইসরা, আয়াত : ৭)

ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.)-এর তত্ত্বাবধানে বায়তুল্লাহ নির্মাণ করা হয়েছে। জাকারিয়া (আ.) মসজিদের ইমাম ছিলেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে ঈসা (আ.)-এর মা মারিয়াম (আ.) মসজিদের খাদেম ছিলেন এবং মসজিদের একপাশে অবস্থান করেই মসজিদের খিদমত করতেন। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩৬-৩৯)

বনি ইসরাঈলের আমলে ইবাদতগৃহ স্থাপন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আমি মুসা ও তার ভাইয়ের কাছে ওহি পাঠালাম যে মিসরে তোমাদের জাতির জন্য গৃহ স্থাপন করো এবং তোমাদের গৃহগুলোকে ইবাদতগৃহ করো, সালাত কায়েম করো এবং মুমিনদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৮৭)

 

মুসলমানদের কিবলা : মুসলমানদের কিবলা হচ্ছে মসজিদে হারাম তথা বায়তুল্লাহ। প্রত্যেক মুসলমানকে সালাতের সময় মসজিদে হারামের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে হয়। কিবলামুখী হওয়া সালাতের অন্যতম ফরজ। ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য কোনো দিকে ফিরে সালাত আদায় করলে তা কবুল হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মসজিদুল হারামের দিকে তোমার চেহারা ফিরিয়ে দাও। আর তোমরা যেখানেই থাকো তোমাদের চেহারাকে সেদিকেই (কাবার দিকে) ফিরিয়ে দাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৪৪)



সাতদিনের সেরা