kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মুসলমানদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা

আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.)   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুসলমানদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা

মুসলিমসমাজে জাতীয় স্বকীয়তা বলতে নিজের পোশাক-পরিচ্ছদ, বেশভূষা, চালচলন, আচার-আচরণ ইত্যাদি অন্য জাতিগোষ্ঠী থেকে ভিন্ন রাখা। ইসলামী শরিয়ত বিনা প্রয়োজনে অন্য ধর্মাবলম্বীদের বেশভূষা ও আচার-আচরণ ও স্বভাব-চরিত্র গ্রহণ করতে নিষেধ করেছে। কেননা, তাদের বহু কাজ এমন, যা তাদের বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি গুনাহের কাজ। যেমন—দাড়ি মুণ্ডানো বা এক মুঠের চেয়ে কম রাখা, হাঁটুর ওপরে বা টাখনুর নিচে পায়জামা পরিধান করা। ইসলামী শরিয়ত এসব কাজ নিষিদ্ধ করেছে। তাই এসব কাজ পরিহার করতে হবে। যদি কেউ ইসলামী পোশাক, যা ইসলামের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত এবং যা শরিয়তসম্মত, এমন পোশাককে তুচ্ছ মনে করে, তাহলে তা গুনাহের স্তর অতিক্রম করে কুফুরির স্তরে পৌঁছে যায়।

আর কিছু বিষয় এমন আছে, যেগুলো বিধর্মীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে গুনাহের কাজ বলে বিবেচিত হবে। নতুবা তা গুনাহের কাজ না। বিধর্মীয় বৈশিষ্ট্য না হওয়ার অর্থ হলো সেগুলো দেখার দ্বারা সাধারণ মানুষের মনে এ খটকা সৃষ্টি হয় না যে এই পোশাক অমুক জাতির লোকদের। যেমন—আচকান বা ধুতি পরিধান করা। এটাকে যদি সমাজ অমুসলিমদের রীতি হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে তা থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। আর যেসব বিষয়ের সঙ্গে ভিন্ন কোনো ধর্মের সম্পর্ক নেই, শুধু তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় এবং তাদের অভ্যাস মাত্র। যেমন—কোট-প্যান্ট, চেয়ার-টেবিলে খাওয়া, ছুরি-কাঁটা দিয়ে খাওয়া ইত্যাদি। বিনা প্রয়োজনে এমন সংস্কৃতি গ্রহণ করলেও গুনাহ হবে। তবে তা কোথাও বেশি, কোথাও কম। কিন্তু তা কুফরি হবে না। আর যেসব বিষয় অন্য ধর্মের প্রতীক ও ধর্মীয় পোশাক হিসেবে স্বীকৃত, তা গ্রহণ করা কুফরিতুল্য গুনাহ। যেমন—ক্রুশ ঝোলানো, মাথায় টিকি রাখা, পইতা বাঁধা, কপালে তিলক দেওয়া ইত্যাদি। যেসব জিনিসের সঙ্গে অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নেই, যেগুলো তাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্য বা ধর্মের প্রতীক নয়; বরং তাদের আবিষ্কৃত এবং সাধারণ প্রয়োজনীয় বস্তু—তা গ্রহণ করা হালাল। যেমন—দিয়াশলাই, ঘড়ি, হালাল ওষুধ, বিভিন্ন প্রকারের বাহন, যোগাযোগ মাধ্যম ইত্যাদি। তবে মুসলিম সমাজে এর বিকল্প থাকলে তা এড়িয়ে চলা উত্তম।

একইভাবে যারা মুসলিম সমাজের সদস্য হয়েও পাপাচারী বা বিদআতী—সে বিদআত দ্বিনের বেশে হোক বা দুনিয়ার বেশে তাদের বেশভূষা গ্রহণ করাও গুনাহের কাজ। যদিও অমুসলিমদের বেশভূষা গ্রহণের চেয়ে এতে কম গুনাহ হবে। নিষিদ্ধ বেশভূষা পুরোপুরি গ্রহণ করলে বেশি গুনাহ হবে আর কম বা আংশিক গ্রহণ করা হলে কম গুনাহ হবে। যেমন—পুরুষ হয়ে নারীর বেশ ধারণ করা। ইরশাদ হয়েছে, ‘(শয়তান বলল যে) এবং আমি তাদের এমন সব বিষয় শিক্ষা দেব, যা আল্লাহর আকৃতি পরিবর্তন করবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১৯)

হায়াতুল মুসলিমিন থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

 



সাতদিনের সেরা