kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যেসব স্থানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ মিসজিদ শব্দটি আরবি। এর অর্থ সিজদা করার স্থান বা নামাজ পড়ার স্থান। পবিত্র কোরআনে এ শব্দ ১৭ বার এসেছে। আভিধানিক অর্থে—যেখানে মানুষ আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা করে সেটাই মসজিদ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার (উম্মতের) জন্য ভূপৃষ্ঠকে মসজিদ (ঘোষণা দেওয়া হয়েছে) ও পবিত্র করা হয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৭৭)

পৃথিবীর সব পবিত্র স্থানে পড়া গেলেও নিম্নের স্থানগুলোতে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ—

কবরস্থান ও গোসলখানা : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গোটা জমিন মসজিদ (তথা সালাতের স্থান) শুধু কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯২)

উট বাঁধার স্থান :  উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করা যাবে না। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তোমরা উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করবে না। কারণ সেটি শয়তানের আড্ডাখানা। অতঃপর তাঁকে ছাগল বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করার কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তোমরা তাতে সালাত আদায় করতে পারবে। কারণ তা বরকতময়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৩)

আজাবের স্থান : আগের জাতির ওপর আজাবের স্থানে সালাত আদায় করা যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা এসব আজাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের লোকালয়ে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ করবে না। কান্না না এলে সেখানে প্রবেশ করো না, যেন তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা তোমাদের প্রতিও আসতে না পারে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৩৩)

ইবনে ওমর (রা.) বলেন, যখন নবী করিম (সা.) হিজর (সামুদ গোত্রের বস্তি) অতিক্রম করেন, তখন তিনি বলেন, যারা নিজ আত্মার ওপর অত্যাচার করেছিল তাদের আবাসস্থলে কান্নাকাটি ছাড়া প্রবেশ কোরো না, যেন তোমাদের প্রতি শাস্তি আপতিত না হয়, যা তাদের প্রতি হয়েছিল। তারপর তিনি তাঁর মস্তক আবৃত করেন এবং অতি দ্রুতবেগে চলে ওই উপত্যকা অতিক্রম করেন। (বুখারি, হাদিস : ৪৪১৯)

বিদ্বানগণের মতে, আজাবের স্থানে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, আজাবের স্থানে নামাজ পড়া সবার ঐকমত্যে হারাম।

ব্যস্ত রাস্তায় নামাজ পড়া : ব্যস্ত রাস্তা, যেখানে যানবাহন চলাচল করে, সেখানে মানুষকে কষ্ট দিয়ে নামাজ না পড়া উত্তম। তবে যদি রাস্তার এক পাশে হয় এবং মানুষের চলাচলে অসুবিধা না হয় তাহলে সেখানে সালাত আদায় করা যাবে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত রাস্তায় সালাত আদায় করা যাবে। তা ছাড়া জরুরি প্রয়োজন যেমন—জুমা ও ঈদের সালাতে জায়গা সংকুলান না হলে রাস্তায় আদায় করা যাবে।

জনগণের চালাচলে বিঘ্ন না ঘটলে রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রাস্তায় বসা সম্পর্কে সতর্ক হও। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তাতে না বসে তো আমাদের উপায় নেই। আমরা তথায় (বসে) আলোচনা করে থাকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি তোমাদের একান্ত বসতেই হয়, তাহলে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। সাহাবিরা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসুল, রাস্তার হক কী? তিনি বলেন, দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা।’ (বুখারি, হাদিস : ৬২২৯)



সাতদিনের সেরা