kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

হাদিসের আলোকে

উম্মতে মুহাম্মদির উপমা

আলেমা মারিয়া মিম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পৃথিবীর ইতিহাসে যত জাতির আবির্ভাব ঘটেছে, উম্মতে মুহাম্মদি সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কারণ এই উম্মতের মাধ্যমে ইসলামের বিধানাবলি যথাযথ সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংরক্ষণের এই প্রক্রিয়ায় সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের পরম্পরায় এ যুগের উলামায়ে কেরামরাও যুক্ত আছেন। এই সংরক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা ইসলামের বিধানকে বিকৃতি থেকে নিরাপদ রেখেছেন। এ ধারায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সাহাবায়ে কেরাম। যেহেতু ইসলামের প্রথম যুগে তারা সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন। বৈরী পরিবেশে নবীর ওপর ঈমান আনা, মদিনায় হিজরত করা, সম্পদ ব্যয় করাসহ শত্রুর মোকাবেলায় নিজের সর্বশক্তি ব্যয় করে অনুসরণীয় ইতিহাস তৈরি করেছেন। তারপর কোরআন-হাদিসের ইলম শিখে পরবর্তীদের কাছে বিশ্বস্ততার সঙ্গে তা পৌঁছিয়েছেন। এক হাদিসে এসেছে, নবী (সা.) বলেছেন, আমার যুগের লোকেরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী (তাবেঈন)। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী (তাবে-তাবেঈন)। (বুখারি, হাদিস : ২৬৫২)

তা ছাড়া এই উম্মতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাপক কল্যাণ ও বরকত আছে। তবে এ কল্যাণ ও বরকত কোন অংশে বেশি, কোন অংশে কম, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। আল্লাহর রাসুল (সা.) বৃষ্টির সঙ্গে উপমা দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার উম্মত সেই বৃষ্টির মতো, যার প্রথম ভাগ না শেষ ভাগ বেশি ভালো তা জানা যায় না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৬৯)

এই হাদিসে একটি বিষয় স্পষ্ট যে  উম্মতে মুহাম্মদির মাধ্যমে ইসলাম তার আপন অবস্থায় কিয়ামত পর্যন্ত বাকি থাকবে। আর ইসলামে তাদের অবদানকে ফসলি বৃষ্টির উপকারিতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যদিও এই উপমা নিয়ে হাদিস বিশারদদের মধ্যে মতবিরোধ আছে।

প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ আল্লামা ইবনে আবদিল বার (রহ.) বলেন, এই উম্মতের শেষাংশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রথমাংশের শ্রেষ্ঠত্বের পরিপন্থী নয়। সাহাবায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে তো কোনো সন্দেহ নেই। তারপর ক্রমানুসারে তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনদের শ্রেষ্ঠত্ব। আর এখানে বৃষ্টির সঙ্গে উপমা দেওয়ার ব্যাখ্যা হলো, প্রথমবারের বৃষ্টিতে বীজ অঙ্কুরিত হয়, পরেরবার বৃষ্টিতে ফসল সৃষ্টি হয়। তাই এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, প্রথমবারের বৃষ্টির উপকার বেশি, নাকি শেষের। ঠিক তেমনি প্রথম যুগে যারা ছিলেন, তারা ইসলামের বিধানাবলির মূল ভিত্তি স্থাপন করেছেন আর শেষের যুগের লোকেরা বিধানাবলির সংরক্ষণ ও বিন্যস্ত করেছেন। সুতরাং এই দৃষ্টিকোণ থেকে নিশ্চিত বলা যায় না যে কোন যুগে কল্যাণ বেশি। তাই এভাবে বলাই ভালো যে উভয় যুগে কল্যাণের ব্যাপ্তি আছে। (আল-মাফাতিহ ফি শরহিল মাসাবিহ : ৬/৩৬৭)

সারকথা হলো, পৃথিবী যত দিন টিকে থাকবে—এই উম্মতের কল্যাণও তত দিন বাকি থাকবে। সুতরাং একজন মুমিনের আবশ্যক হলো ইসলামের বিধানাবলিকে সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় কল্যাণের এই ধারা থেকে উপকৃত হওয়ার সাধনা করা।

 



সাতদিনের সেরা