kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাপানি নওমুসলিম নাকাতা কাউলা

হিজাব শুধু পোশাক নয়, প্রতীক

হিজাবের প্রতি আমার মূল আকর্ষণের কারণ, আমি এর মধ্যে নারীত্বের বিশুদ্ধতা এবং নিরাপত্তা বোধ করেছি। আমার মনে হয় আমি আল্লাহর নৈকট্যে আছি

আবরার আবদুল্লাহ   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হিজাব শুধু পোশাক নয়, প্রতীক

যখন আমি প্রাকৃতিক ধর্ম ইসলামের দিকে ফিরে আসি, তখন ফ্রান্সে স্কুলে মেয়েদের হিজাব পরিধান নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। একজন অমুসলিম হিসেবে আমি বুঝতে পারছিলাম না মুসলিম শিক্ষার্থীদের স্কার্ফ পরিধানের মতো এত ছোট্ট বিষয়ে এত হৈচৈ কেন হচ্ছে? যেহেতু ফ্রান্সেও মুসলিমরা আনুপাতিক হারে রাষ্ট্রকে কর প্রদান করে। আমি মনে করি, স্কুলগুলোর উচিত শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান করা। যতক্ষণ না তারা স্কুলের রুটিন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। এখনো আরব দেশগুলোতে বহু আরব নারী হিজাব পরিধান করে এবং করছে। কিন্তু বহু আরব ও অনারব অপছন্দ করলেও পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষতা আরবসমাজে শেকড় গেড়েছে। মূলত ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাবে মুসলিম বিশ্বের পুনর্জাগরণ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ জাপানে একটি রক্ষণশীল ঐতিহ্যপ্রীতি এবং পশ্চিমাবিরোধী মনোভব সক্রিয় আছে। মেইজি যুগে জাপানের সঙ্গে পশ্চিমা সংস্কৃতির একটি সংযোগ স্থাপনের পর জাপানিরা তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।

বেশির ভাগ অমুসলিম মনে করে, মুসলিম নারীরা শুধু ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই হিজাব পরিধান করে এবং তারা এটাকে নারী নির্যাতনের অংশ মনে করে। ফলে তাদের বিশ্বাস, নারীর হিজাব দূর করা ছাড়া নারীর স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব নয়। অথচ সারা বিশ্বের নারীরা, অনারব নারীরা ইসলাম গ্রহণ করছে এবং হিজাব পরিধান করছে ধর্মীয় প্রয়োজনে। শুধু ঐতিহ্যের আনুগত্য হিসেবে নয়। যেমন—হিজাব শুধু ঐতিহ্য নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণেও আমি তা পরিধান করি না; আমি তা পরিধান করি শুধু আল্লাহর জন্য এবং আমার ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে। অমুসলিমদের জ্ঞাতার্থে বলছি, নারীরা শুধু চুল ঢাকতে হিজাব পরিধান করেন না; বরং তারা এমন আরো কিছু আড়াল করেন, যা একান্তই তাঁর। সেখানে আর কারো প্রবেশাধিকার নেই। প্যারিসে ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমি হিজাব পরিধান করি। দেশ ও সমাজ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সচেতনতার বিচারে হিজাব বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন—ফ্রান্সে আমি পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা ধরনের হিজাব পরিধান করতাম, যা আলতোভাবে আমার মাথায় লেগে থাকত এবং যা ছিল ফ্যাশনেবল। এখন আমি সৌদি আরবে পুরো শরীর ঢেকে রাখে—এমন কালো বোরকা পরিধান করি। এখন আমার চোখও দেখা যায় না। সুতরাং সাধারণ স্তর থেকে পরিপূর্ণ পর্দার অভিজ্ঞতা আমার আছে। আমার কাছে হিজাব কি অর্থ বহন করে? হিজাব বিষয়ে বহু বই ও প্রবন্ধ আছে। তবে তার বেশির ভাগ লেখা হয়েছে অন্যদের অভিজ্ঞতার আলোকে। আমি আশা করছি, আমি নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করার সুযোগ পাব।

আমি যখন ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন ভাবিনি আমি কখনো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে এবং হিজাব পরিধান করতে পারব। সম্ভবত আমি ভীত ছিলাম। তখন যদি আমি আরো বেশি সিরিয়াস হতাম, তাহলে হয়তো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেতাম এবং ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যেতাম। প্যারিসের কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিদর্শনের আগে আমি ইসলামের কিছুই পরিপালন করিনি। নামাজ ও হিজাবের সঙ্গেও আমি অপরিচিত ছিলাম না। তবে আল হামদুলিল্লাহ! অন্যসব দুশ্চিন্তা থাকার পরও আমার ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা খুব প্রবল ছিল। মসজিদে বক্তৃতা শোনার পর হিজাবের উপকারিতা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আমি কখনো হিজাব পরিত্যাগ করিনি। কেননা সে আলোচনা শুনে আমি যে পরিতৃপ্তি অর্জন করেছিলাম, তা কখনো হারাতে চাইনি।

হিজাবের প্রতি আমার মূল আকর্ষণের কারণ, আমি এর মধ্যে নারীত্বের বিশুদ্ধতা এবং নিরাপত্তা বোধ করেছি। আমার মনে হয় আমি আল্লাহর নৈকট্যে আছি। প্যারিসে একজন বিদেশি হিসেবে আমি কখনো কখনো পুরুষের দৃষ্টিতে অস্বস্তিবোধ করতাম। হিজাব আমাকে আড়াল করে এবং অসভ্য দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। হিজাব আমাকে সন্তুষ্ট করেছে। এটা আল্লাহর প্রতি আমার আনুগত্য ও বিশ্বাসের প্রতীক। হিজাব পরিধান করলে কাউকে আমার বিশ্বাসের পরিচয় দিতে হয় না। তারা আমাকে দেখেই বুঝে যায়—আমি মুসলিম। হিজাব মুসলিমদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। হিজাব মানুষকে স্রষ্টার অস্তিত্বের কথা বলে এবং আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় মুসলিম হিসেবে আমার করণীয় কী? নির্ধারিত পোশাক যেমন একজন পুলিশ অফিসারকে তার দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয় দেয়, হিজাবও মুসলিম নারী হিসেবে আমার করণীয়-বর্জনীয় ভুলতে দেয় না।

ইসলামিক ওয়েব অবলম্বনে

 



সাতদিনের সেরা