kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বড় পরীক্ষায় বড় পুরস্কার

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড় কিছু অর্জন করতে গেলে বড় কিছু বিসর্জন দিতে হয়। বড় কোনো পুরস্কার পেতে গেলে বড় ধরনের পরীক্ষা দিতে হয়। জান্নাতের মহা পুরস্কার লাভ করতে গেলে দুনিয়াতে বড় বড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। তাই বহু ঈমানদারের জীবনে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদ লেগে থাকে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুমিনের জন্য দুনিয়া কারাগারসদৃশ ও কাফিরের জন্য জান্নাতসদৃশ।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৯৫৬)

বিভিন্নমুখী বিপদাপদ মোকাবেলা করতে করতে দুনিয়ায় দুঃখজর্জরিত মুমিন যখন মৃত্যুবরণ করবে, তখন তার আর কোনো গুনাহ থাকবে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুমিন নর-নারীর নিজ জীবন, সন্তান ও সম্পদে সর্বদা বালা-মুসিবত লেগেই থাকবে। অতঃপর সে আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে এমন অবস্থায় যে তার কোনো গুনাহ থাকবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৯)

পক্ষান্তরে দুষ্ট লোকদের সাময়িক অবকাশ দেওয়া হয়। দুনিয়ায় পাপী, অবিশ্বাসী ও খারাপ মানুষের জয়জয়কার দেখে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘বরং আল্লাহ তাদের উপহাসের বদলা নেন এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে ছেড়ে দেন বিভ্রান্ত অবস্থায়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫)

কিন্তু এই অবকাশ তাদের কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না; বরং কিয়ামতের দিন এদের কঠিনভাবে পাকড়াও করা হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন আল্লাহ তাঁর কোনো বান্দার অমঙ্গল চান তখন তার গুনাহের বদলা নিজের কাছে আটকে রাখেন, যাতে কিয়ামতের দিন পুরোপুরিভাবে তাকে বদলা দিতে পারেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৬)

এ দুনিয়ায় সর্বাধিক বিপদগ্রস্ত কারা—এমন প্রশ্নের জবাবে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এ দুনিয়ায় সবচেয়ে কঠিন বিপদগ্রস্ত হলেন নবীরা। তারপর ক্রমানুযায়ী সর্বোচ্চ নেককাররা। মুমিন পরীক্ষিত হবে তার দ্বিন অনুযায়ী। যদি সে দ্বিনের বিষয়ে কঠিন হয়, তাহলে তার পরীক্ষা সে অনুযায়ী কঠিন হবে। আর যদি সে দ্বিনের ব্যাপারে ঢিলা হয়, তার পরীক্ষা অনুরূপ হালকা হবে। মুমিনের ওপর এভাবে পরীক্ষা চলতে থাকবে। এমন একসময় আসবে যে সে জমিনের ওপর চলাফেরা করবে এমন অবস্থায় যে তার কোনো গুনাহ থাকবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৮)

কেননা, মুমিনের জন্য বালা-মুসিবত গুনাহের কাফফারাস্বরূপ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুমিন কোনো ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট বা উদ্বিগ্নতা ভোগ করে না, এমনকি তার কোনো কাঁটাও বিঁধে না, যেগুলোর বিনিময়ে কাফফারা হিসেবে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করেন না।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪১)

কাজেই দুনিয়াতে যার পরীক্ষা যত বড়, তার পুরস্কার তত বড়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই বড় পুরস্কার বড় পরীক্ষার ফলে হয়ে থাকে। আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষায় ফেলেন। যে ব্যক্তি সেই পরীক্ষায় সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যে ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য থাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৬)

 



সাতদিনের সেরা