kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রয়োজন-অতিরিক্ত সম্পদ দিয়ে মানবসেবার তাগিদ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদের নিরঙ্কুশ মালিক একমাত্র আল্লাহ। মানুষকে জীবনের প্রয়োজনে ভোগের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তাই ব্যক্তি তার যোগ্যতা ও শ্রমের মাধ্যমে যে সম্পদ উপার্জন করে, তা থেকে নিজের প্রয়োজন অনুসারে ব্যয় করার পর অতিরিক্ত সম্পদ আল্লাহর নির্দেশ ও বিধান অনুযায়ী খরচ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদের ধন-সম্পদে আছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৯) 

মানবজীবনে সম্পদের সীমাহীন প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ইসলাম বৈধ পন্থায় উপার্জনে উৎসাহিত করেছে। কারণ সম্পদ ছাড়া জীবন ধারণ ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব নয়। কিন্তু পৃথিবীর স্বাভাবিক নীতি হলো, কোনো ব্যক্তি তার উপার্জিত অর্থের পুরো অংশ খেতে পারে না। পরিবার, সন্তান ও আশপাশের মানুষকে নিয়েই উপার্জিত অর্থ ভোগ করতে হয়। তাই প্রয়োজন-অতিরিক্ত সম্পদ দিয়ে মানবসেবা একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, যে অর্থ তোমরা উপার্জন করেছ এবং যা কিছু আমি জমিন থেকে তোমাদের জন্য বের করে দিয়েছি, তা থেকে উত্কৃষ্ট অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করো। তাঁর পথে ব্যয় করার জন্য তোমরা সবচেয়ে খারাপ জিনিস বাছাই করার চেষ্টা কোরো না। অথচ ওই জিনিসই যদি কেউ তোমাদের দেয়, তাহলে তোমরা কখনো তা নিতে রাজি হও না—যদি না তা নেওয়ার ব্যাপারে তোমরা চোখ বন্ধ করে থাকো। তোমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি সর্বোত্তম গুণে গুণান্বিত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৭)

সুতরাং উপার্জিত অর্থের অতিরিক্তি অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, আমরা আল্লাহর পথে কী ব্যয় করব? বলে দাও, যা কিছু তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২১৯)

এখানে নিজের পরিবারের জন্য খরচ করার পর যা কিছু অবশিষ্ট থাকে, তা দান করতে বলা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম কিভাবে এই আয়াতের ওপর আমল করেছেন, তা এক হাদিসে বিবৃত হয়েছে।

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি সওয়ারিতে আরোহণ করে তাঁর কাছে এলো এবং ডানদিকে ও বামদিকে তাকাতে লাগল। তখন রাসুল (সা.) বলেন, যার কাছে আরোহণের কোনো অতিরিক্ত বাহন থাকে, সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে—যার কোনো বাহন নেই। আর যার কাছে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য থাকে, সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে—যার খাদ্যদ্রব্য নেই। তারপর তিনি বিভিন্ন ধরনের সম্পদ সম্পর্কে এভাবে বলেন। এমনকি আমাদের মনে হলো যে অতিরিক্ত সম্পদের মধ্যে আমাদের কারো কোনো অধিকার নেই। (মুসলিম, হাদিস : ৪৪০৯)

মুসলিম ও অমুসলিমের অর্থনৈতিক জীবানাচারে পার্থক্য এখানেই। কাজেই প্রকৃত ঈমানদার হতে হলে অবশ্যই মানবিক মানুষ হতে হবে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা