kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পারস্পরিক সম্পর্ক সুরক্ষার তাগিদ

মাইমুনা আক্তার   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবন চলার পথে বহু মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল্লাহর জন্য সৎ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা মুমিনের কাজ। সম্পর্ক মানবজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘(তারাই বিবেকবান) আল্লাহ যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আদেশ দিয়েছেন, যারা তা অক্ষুণ্ন রাখে এবং তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, আর ভয় করে কঠোর হিসাবকে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২১)

এ আয়াতে বলা হয়েছে, বিবেকবান ঈমানদাররা সম্পর্কের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান হয়। পাশাপাশি তারা সার্বিক বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করে। এই ভয় উৎসারিত হয় সম্মান, জ্ঞান, ভক্তি ও ভালোবাসা থেকে।

তাই সম্পর্ক নিয়ে হেঁয়ালিপনা করা একদমই উচিত না। বিশেষ করে রক্তের সম্পর্ক। ইচ্ছা হলো, সম্পর্ক রাখলাম, ইচ্ছা হলো সম্পর্ক ভেঙে দিলাম—এটি কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অন্যের কাছে চাও। তোমরা সতর্ক থাকো রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়দের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের পর্যবেক্ষক।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১)

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক আল্লাহর আরশের সঙ্গে ঝুলন্ত আছে। সে বলে, যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে আল্লাহ তার সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখবেন। আর যে আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আল্লাহ তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬৪১৩)

তাই কখনো আত্মীয়তার সম্পর্ক ইচ্ছাকৃত ভেঙে ফেলা উচিত নয়। শুধু আত্মীয়তাই নয়, কোনো জায়েজ সম্পর্কই সহজে ভাঙতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ একটি ইমারত কুড়াল ও দুরমুজ দ্বারা আঘাত করতে থাকলে তা ভেঙে পড়ে যাবে। দুদিনের মধ্যেই তার ধ্বংসলীলা দেখা যাবে। কিন্তু এমন একটি ইমারত কি দুদিনে দাঁড় করানো সম্ভব? মোটেও নয়। পারস্পরিক সম্পর্কও এমন, যা ভাঙতে সময় লাগে না; কিন্তু গড়তে সময় লাগে।

আয়েশা (রা.) বলেন, একবারের ঘটনা, রাসুল (সা.)-এর দরবারে এক বৃদ্ধা এলেন। রাসুল (সা.) তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন। সমাদরের সঙ্গে গ্রহণ করেন। অত্যন্ত খাতিরযত্ন করেন। সম্মানের সঙ্গে তাঁকে বসালেন। ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করেন। বৃদ্ধা যখন চলে গেলেন, তখন আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি যাঁকে এভাবে গ্রহণ করলেন, কে সেই বৃদ্ধা? রাসুল (সা.) জবাবে বলেন, বৃদ্ধাকে খাদিজা (রা.)-এর জীবদ্দশায় দেখেছিলাম। তাঁর সঙ্গে খাদিজার ভালো সম্পর্ক ছিল। তাই আমি তাঁর সমাদর করলাম। তারপর রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণ করা ঈমানের অংশ।’ (শুআবুল ঈমান) কাজেই সম্পর্ক পরিপূর্ণভাবে ছিন্ন করে দেওয়া মুমিনের কাজ নয়।

ওপরের হাদিসে আমাদের জন্য দুটি শিক্ষা আছে। এক. যাদের সঙ্গে সম্পর্ক এক-দুদিনের নয়; বরং দীর্ঘদিনের, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবে। একে কোনোভাবে নষ্ট হতে দেবে না। যেমন—মা-বাবা, স্ত্রী প্রমুখ। এমনকি (মৃত) অতি নিকটাত্মীয়দের বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গেও ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক জীবিত রাখা উচিত। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, সর্বাধিক সওয়াবের কাজ হলো, বাবার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখা। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯০৩)

উল্লিখিত হাদিসের দ্বিতীয় শিক্ষা হলো, সম্পর্ক ঠিক রাখার প্রতি পরিপূর্ণ যত্ন নেওয়া। অর্থাৎ সম্পর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে সব সময় সুন্দর আচরণ করে যাওয়া এবং নিজের পক্ষ থেকে কখনো সম্পর্ক ছিন্ন না করা। ধরে নেওয়া যাক—সম্পর্কিত ব্যক্তি বিভিন্নভাবে কষ্ট দিচ্ছে, তবু তার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করা। কেননা, এটা রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। তাই নবীজি (সা.)-এর সুন্নতকে সম্মান জানিয়ে জায়েজ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা মুমিনের কর্তব্য। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

 



সাতদিনের সেরা