kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

শিল্পীর তুলিতে ফিলিস্তিনিদের আত্মার সৌন্দর্য

আবরার আবদুল্লাহ   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিল্পীর তুলিতে ফিলিস্তিনিদের আত্মার সৌন্দর্য

‘আমাদের ভেতর যে আত্মা লড়াই করে’ বাক্য লিখেছেন ফিলিস্তিনি শিল্পী বেলাল খালিদ। বোমা হামলায় বিধ্বস্ত একটি দেয়ালে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাত মিটার প্রস্থের দেয়ালচিত্রটি আঁকতে তাঁর সময় লেগেছে চার দিন। একটি সাধারণ ব্রাশ ও রংভরা বালতি দিয়ে ফিলিস্তিনি মানুষের অনুভূতি, যা চারপাশের বাতাসে বয়ে বেড়ায় তা ভাষান্তর করে তিনি। বেলাল বলেন, ‘আমরা বাক্যটি গ্রহণ করেছি আমাদের প্রতিটি পুরুষ, নারী ও শিশুর আত্মার লড়াইকে, ফিলিস্তিন সমাজের প্রতিটি আত্মার সংগ্রামকে ব্যক্ত করতে। তাদের প্রতিটি আত্মা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে।’

বেলাল একজন ফিলিস্তিনি শিল্পী। তিনি গাজা উপত্যকার খান ইউনুস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্যালিগ্রাফি আঁকছেন। বেলালের ভাষায়, আমি ১৪ বছর বয়স থেকে ক্যালিগ্রাফি চর্চা শুরু করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বেলাল গাজার প্রথম শিল্পী হিসেবে ‘ক্যালিগ্রাফিতি’ চর্চা শুরু করেন। ‘ক্যালিগ্রাফিতি’ হলো ক্যালিগ্রাফি, টাইপোগ্রাফি ও গ্রাফিতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শিল্প। খালিদ কাজ করেন গাড়িতে, হ্যান্ডব্যাগে, দেয়ালে, এমনকি মানব দেহে। বেলাল বলেন, ‘আমি আরবি ক্যালিগ্রাফিতে নিজস্ব পরিচয় সৃষ্টি করেছি জীবনঘনিষ্ঠ জিনিস যেমন—গাড়ি, দোকান, দেয়াল এবং কাপড়ে তা অঙ্কন করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ক্যালিগ্রাফিতি’ হলো নিজের বিশ্বাসকে ব্যক্ত করার শিল্প। বর্ণকে চিত্রে রূপান্তর করা আমার নিজস্ব রীতি। আমি আরবি ক্যালিগ্রাফির সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই। আরবি ভাষার একটা নিজস্ব আকর্ষণ আছে, যা তার প্রতিটি বর্ণের সৌন্দর্য বহন করে।’

বেলালের প্রত্যাশা তাঁর শিল্প মানুষকে কাগজ-কলমে আরবি বর্ণচর্চায় উদ্বুদ্ব করবে। অবশ্য বেলালের শিল্পকর্ম এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে প্রদর্শিত হয়েছে। একাধিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে সে। পেশায় বেলাল একজন ফটোসাংবাদিকও। গাজা যুদ্ধ, সিরিয়া যুদ্ধ, ইউরোপ ও গ্রিসের শরণার্থী সংকট, আজারবাইজান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ‘হট স্পটে’র বহু ছবির সংগ্রহ আছে তার কাছে, যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

এপি ও আল-জাজিরার বিধ্বস্ত ভবনে সে লিখেছে, ‘সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।’ একই সঙ্গে শিল্পী ও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে বেলাল পৃথিবীকে গাজার ভিন্নরূপ দেখাতে চান। দেখাতে চান ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপাপড়া গাজার সৌন্দর্য এবং গাজাবাসীর অসহনীয় জীবনযাত্রা। ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশ বলেছিলেন, ‘আমরা জীবনকে ভালোবাসি, যদি আমরা তার জন্য কোনো উপায় খুঁজে পাই।’ ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন প্রমাণ করছে, তারা জীবনকে ভালোবাসে এবং ধ্বংসকে জীবনে পরিণত করার উপায় খুঁজে ফেরে। বেলাল মাহমুদ দারবিশের কথায় প্রাণসৃষ্টির চেষ্টা করেন। ফটোগ্রাফার ও ক্যালিগ্রাফিস্ট হিসেবে তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিতে বিশ্বকে শুধু ইসরায়েলি দখলদারদের বর্বরতার প্রকৃত চিত্র নয়; বরং প্রতিটি ফিলিস্তিনির আত্মার সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তোলে।

মিডল ইস্ট মনিটর অবলম্বনে

 



সাতদিনের সেরা