kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

মুমিনের জীবনে ঈমানের প্রভাব

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুমিনের জীবনে ঈমানের প্রভাব

মুমিনের জীবনে ঈমানের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। মুমিনের আহার-নিদ্রা থেকে শুরু করে সব কাজকর্ম পরিচালিত হয় ঈমানের আলোকে। শক্তি, সামর্থ্য ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ঈমানদার পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। সব কাজে সে হালাল-হারামের সীমারেখা মেনে চলে। অবৈধ ও অনৈতিক কাজ তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। কোনো পাপ কাজ করে ফেললেও তাঁর মধ্যে অনুশোচনা কাজ করে। ঈমানদারের জীবনের প্রধান লক্ষ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই সে প্রচণ্ড শীতের রাতেও ইবাদতে দাঁড়িয়ে যায়। নিজ কষ্টার্জিত সম্পদ থেকে নিঃস্ব, অনাথ ও অসহায়কে দান করে। লোকচক্ষুর আড়ালেও সে অপরাধ করতে ভয় পায়। কারণ মুমিন বিশ্বাস করে, ‘কেউ না দেখলেও আল্লাহ আমাকে দেখছেন।’ এই বিশ্বাস তাঁকে সৎ, সত্য ও মহত্ত্বের পথে পরিচালিত করে।

ঈমানদার ভিন গ্রহের লোক নয়। জাগতিক নিয়ম মেনেই সে যাবতীয় কাজ করে। আহারবিহার, পরিবার, দুনিয়ার কায়কারবার—কোনো কিছুই সে বর্জন করে না। তবু সে অন্যের চেয়ে আলাদা। তার জীবনধারা অন্যের চেয়ে ভিন্ন। জীবন তার পরিপাটি। অন্তর তার পবিত্র। এভাবে দুনিয়ায় অবস্থান করেও সে জান্নাতের পথে চলে। ঈমানের বদৌলতে আল্লাহ তাকে সুখময় জান্নাতের পথ দেখান।

ঈমানের বীজ লুকায়িত থাকে ঈমানদারের অন্তরে। অথচ এর শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত থাকে আসমান অবধি। ঈমান ব্যক্তিকে নিজ স্রষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত করে। তাঁকে ঐশী বন্ধনে আবদ্ধ করে। বিশ্বাসী মানুষ নিজ বিশ্বাস নিয়ে কবরে যায়। এই ঈমান তাঁকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ ঈমানদারদের ঈমানের কল্যাণে হিদায়াত করেন। কোরআন ও হাদিসে হিদায়াতকে চার স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে—এক. প্রয়োজনীয় বিষয়ে সৃষ্টিগত অনুভূতি। যেমন—মুসা (আ.)-এর কথা উল্লেখ করে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মুসা বলল, আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি সব কিছুকে নিজস্ব আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর হিদায়াত (পথনির্দেশ) করেছেন।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৫০)

দুই. হিদায়াত শব্দের অর্থ পথ দেখানো, সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া। এই হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল ও আসমানি গ্রন্থ পাঠানো হয়েছে। তিন. আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালো কাজ করার তাওফিক ও সামর্থ্য লাভ করা। এ অর্থে যারা ভালো কাজ করে, তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত। চার. আল্লাহ কিয়ামতের দিন মুমিনদের জান্নাতে পৌঁছে দেবেন। এটি হিদায়াতের চতুর্থ ও চূড়ান্ত স্তর। হাদিস শরিফে এসেছে : “কিয়ামতের দিন মুমিন যখন কবর থেকে বের হবে, তার নেক আমল সুন্দর আকৃতি ধারণ করবে। তারপর সে বলতে থাকবে, ‘আমি তোমার আমল।’ অতঃপর এ আমল আলো হয়ে, গাইডলাইন হয়ে ঈমানদার জান্নাতে পৌঁছে দেবে।” (তাফসিরে মুনির)