kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

সাহাবিদের সাদামাটা খাবারদাবার

মুফতি তাজুল ইসলাম   

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন রাসুল (সা.)-এর সত্যনিষ্ঠ অনুসারী। রাসুল (সা.)-এর অল্পে তুষ্ট জীবনকে তারা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। তাঁদের জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটে। নিম্নে এ বিষয়ে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো—

সাওবান (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে এই ওয়াদা করবে যে সে কারো কাছে ভিক্ষার হাত বাড়াবে না, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিনদার হবো।’ সাওবান (রা.) বলেন, আমি। ফলে তিনি কারো কাছে কিছু চাইতেন না। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৪৩)

এমনকি আরোহী থাকা অবস্থায় সাওবান (রা.)-এর হাত থেকে যদি চাবুক নিচে পড়ে যেত, তিনি কাউকে বলতেন না যে এটা আমাকে তুলে দাও। বরং তিনি নিজে বাহন থেকে নেমে সেটা তুলে নিতেন। (ইবনে মাজাহ)

রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর স্ত্রীদের জীবনও ছিল সাদামাটা। বিশিষ্ট তাবেঈ হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘আমি উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর খেলাফতকালে রাসুল (সা.) স্ত্রীদের ঘরসমূহে যাতায়াত করতাম। আমি তাদের ঘরের ছাদগুলো আমার দুই হাতের নাগালে পেতাম।’ (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস : ১০২৪৯)

অর্থাত্ উম্মাহাতুল মুমিনিনের বসবাসের ঘরে ছাদ এত নিচু ছিল যে দুই হাতে সেই ঘরের ছাউনি নাগাল পাওয়া যেত।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি আসহাবে সুফফার ৭০ জন সাহাবিকে এমন দেখেছি যে তাঁদের কারো কাছে গা ঢাকার জন্য চাদর ছিল না। কারো লুঙ্গি ছিল এবং কারো চাদর ছিল। কিন্তু একসঙ্গে দুটি বস্ত্র কারো কাছে ছিল না। তাঁরা সেই কাপড় গলায় বেঁধে নিতেন। অতঃপর কাপড়টি কারো অর্ধগোছা পর্যন্ত এবং কারো টাখনু পর্যন্ত পৌঁছত। আর তাঁরা হাত দিয়ে জামা ধরে রাখতেন, যাতে লজ্জাস্থান দেখা না যায়।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৪২)

উরওয়া ইবনে জুবাইর (রহ.) বলেন, একবার মুআবিয়া (রা.) আয়েশা (রা.)-কে এক লাখ দিরহাম হাদিয়া দিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর খাদেমার মাধ্যমে সেই দিরহামগুলো মানুষের মাঝে বণ্টন করা শুরু করেন। আল্লাহর কসম! সন্ধ্যা হতে না হতেই সব দিরহাম সদকা করে শেষ করে দিলেন। সন্ধ্যার পর তিনি খাদেমাকে খাবার প্রস্তুত করতে বলেন। কিন্তু তাঁর ঘরে পর্যাপ্ত খাবার ছিল না। তাই খাদেমা আয়েশা (রা.)-কে বলল, আপনি যদি এক দিরহাম দিয়ে কিছু গোশত কিনে রাখতেন, তাহলে খাবারের আয়োজন করা যেত। তখন আয়েশা (রা.) বলেন, তুমি আমাকে আগে স্মরণ করিয়ে দাওনি কেন, তাহলে তো আমি কিছু গোশত কেনার ব্যবস্থা করতাম। (আত-তাবাক্বাতুল কুবরা : ৮/৫৩)

অর্থাত্ এতগুলো দিরহাম থেকে নিজের জন্য যে কিছু রাখতে হবে, সেটা তিনি একেবারেই ভুলে গিয়েছিলেন।

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, সালমান ফারসি (রা.) দুই ফালি কাপড় পরিধান করে খুতবা দিতেন। এক ফালি লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করতেন, আর এক ফালি গায়ে জড়িয়ে নিতেন। যখন তাঁকে কেউ কোনো কিছু হাদিয়া দিত, তিনি সেটা দান করে দিতেন। আর তিনি নিজ হাতে খেজুর পাতার পাটি বোনাতেন এবং সেটা বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করতেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ১/৫৪৭)

এভাবেই সাহাবিরা সাদামাটা জীবন যাপন করতেন।



সাতদিনের সেরা