kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

পরকালে সুপারিশের জন্য আল্লাহর অনুমতি নিতে হবে

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলামী আকিদা ও বিশ্বাস হলো, পরকালে আল্লাহর দরবারে পাপীদের জন্য নেককাররা সুপারিশ করবেন। মানুষের আমল তার জন্য সাক্ষ্য দেবে। রোজা ও কোরআন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। নবী-রাসুল, হাফেজ-আলেম ও শহীদরা পাপাচারী ইমানদারদের জন্য সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করে পাপীদের ক্ষমা করে দেবেন। তবে এই শাফায়াত নিঃশর্ত নয়। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তাঁর (আল্লাহর) অনুমতি না নিয়ে সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তাঁর ইবাদত করো। তবু কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৩)

এই আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর অনুমতি না নিয়ে (পরকালে) সুপারিশ করার কেউ নেই।’

অর্থাৎ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কিয়ামতের দিন কেউ কোনো কথা বলতে পারবে না। কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবে না। এতে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে পরকালে শাফায়াত বা সুপারিশ করা যাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাকে অনুমতি দেওয়া হয়, সে ছাড়া আল্লাহর কাছে কারো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না।’ (সুরা সাবা, আয়াত : ২৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন ও যার কথা তিনি পছন্দ করবেন সে ছাড়া সেদিন (কিয়ামতের দিন) কারো সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১০৯)

কিয়ামতের দিন সবার আগে মহানবী (সা.)-কে শাফায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। হাদিস শরিফে এসেছে : ‘কিয়ামতের দিন মানুষ একে অন্যের কাছে দৌড়াতে থাকবে। তারা আদম (আ.)-এর কাছে এসে বলবে, আপনার প্রভুর কাছে (আমাদের জন্য) সুপারিশ করুন। তিনি বলবেন, আমি এর যোগ্য নই। তোমরা ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছে যাও। কেননা তিনি আল্লাহর বন্ধু। লোকেরা ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেন, আমি এর যোগ্য নই। তোমরা ঈসা (আ.)-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর প্রত্যক্ষ আদেশে আত্মা লাভ করেছেন ও আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। ফলে তারা ঈসা (আ.)-এর কাছে আসবে। ঈসা (আ.) বলবেন, আমি এর যোগ্য নই। তোমরা বরং মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে যাও। অতঃপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি বলব, আমি সুপারিশ করতে পারব (তবে আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে)। তারপর আমি আমার প্রতিপালকের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করব। তাঁর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করে সিজদাবনত হবো। তিনি বলবেন, হে মুহাম্মদ, মাথা উত্তোলন করো। (যা বলার আছে) বলো, তোমার কথা শোনা হবে। (যা চাওয়ার আছে) চাও, তোমাকে দান করা হবে। সুপারিশ করো, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি বলব, ‘ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি—হে আল্লাহ, আমার উম্মতকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৩; বুখারি, হাদিস : ২১৩৩)

 



সাতদিনের সেরা