kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

এতিম ও বিধবার পুনর্বাসনে অফুরন্ত সওয়াব

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এতিম ও বিধবার পুনর্বাসনে অফুরন্ত সওয়াব

ইসলাম দয়া ও ভালোবাসার ধর্ম। তাই বরাবরই এতে অসহায়ের দায়িত্ব নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এককভাবে ভালো থাকার নাম ইসলাম নয়; বরং সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকাই ইসলামের সৌন্দর্য। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানবদেহের মতো; যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয় তখন তার সব দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্রা।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৮০)

তাই সাধ্যমতো অসহায়দের সাহায্য করা, তাদের পুনর্বাসন করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। বিশেষ  করে এতিম ও বিধবারা নিদারুণ কষ্টে দিন পার করে। স্বার্থের এই দুনিয়ায় কেউ তাদের খোঁজ নেয় না। অথচ কোরআন-হাদিসে তাদের অধিকারের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসন ও তত্ত্বাবধানের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে।

অভাব-অনটন সবারই কম-বেশি আছে, থাকবে। এর মাঝেই নিঃস্বার্থভাবে সমাজ ও পরিবারের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। অভাব-অনটন থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অভাবীদের পাশে দাঁড়ালে এর বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ জান্নাতিদের প্রাপ্ত নিয়ামত ও তাদের গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘তারা আহার্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও (আল্লাহর ভালোবাসায়) অভাবী, এতিম ও বন্দিকে আহার্য দান করে। (এবং তারা বলে) শুধু আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের আহার্য দান করি। বিনিময়ে তোমাদের থেকে কোনো প্রতিদান চাই না।’ (সুরা : দাহর, আয়াত : ৮-৯)

তাই অভাবের ভয়ে বিধবা ও এতিমদের অবহেলা করা উচিত নয়। তাদের পরিবার ও সমাজ থেকে আলাদা করে দেখা বা বোঝা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তারা কোনোভাবে বোঝা নয়। মহান আল্লাহ তাদের সাময়িক বিপদের কারণে জান্নাতে যাওয়ার সোপান বানিয়ে দেন। ফলে যারা তাদের পুনর্বাসনে সচেষ্ট হয়, তারা অফুরন্ত কল্যাণ লাভ করে। ফওয়ান ইবনে সুলায়ম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে লোক বিধবা ও মিসকিনদের ভরণ-পোষণের ব্যাপারে চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো। অথবা সে ওই ব্যক্তির মতো, যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে (ইবাদতে) দণ্ডায়মান থাকে। (বুখারি, হাদিস : ৬০০৬)

অর্থাৎ সারা রাত জেগে নামাজ পড়ে। সুবহানাল্লাহ! এখানেই শেষ নয়, যে বাড়িতে এতিমদের যত্ন করা হয়, সে বাড়িকে সর্বোত্তম বাড়ি আখ্যা দিয়েছেন প্রিয় নবী (সা.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মুসলিমদের ওই বাড়িই সর্বোত্তম, যে বাড়িতে এতিম আছে এবং তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট ওই বাড়ি, যে বাড়িতে এতিম আছে অথচ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। অতঃপর তিনি তাঁর অঙ্গুলির মাধ্যমে বলেন, ‘আমি ও এতিম প্রতিপালনকারী জান্নাতে এমনভাবে অবস্থান করব।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬৭৯)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো এতিমকে আপন মা-বাবার সঙ্গে নিজেদের (পারিবারিক) খাবারের আয়োজনে বসায় এবং (তাকে এই পরিমাণ আহার্য দান করে যে) সে পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করে, তাহলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮২৫২)। এর বিপরীতে যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অসহায় মানুষদের উপেক্ষা করে নিজে ভালো থাকতে চায়, তাদের অভুক্ত রেখে নিজে তৃপ্তিসহকারে খেতে চায়, প্রিয় নবী (সা.) তাদের মুমিন বলে স্বীকৃতি দেননি। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস (রা.) ইবনে যুবাইর (রা.)-কে অবহিত করে বলেন, আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে তৃপ্তি সহকারে আহার করে সে মুমিন নয়। (আদবুল মুফরাদ, হাদিস : ১১১)

মহান আল্লাহ সবাইকে এতিম ও বিধবাদের পুনর্বাসনে সচেষ্ট হওয়ার তাওফিক দান করুন।



সাতদিনের সেরা