kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

অন্তরের ব্যাধি সম্পর্কে উদাসীনতা নয়

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্তরের ব্যাধি সম্পর্কে উদাসীনতা নয়

শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘সমাজের অনেক মানুষই অপরাধ বলতে শুধু ব্যভিচার, চুরি ও অত্যাচারকে বোঝে এবং এসব কাজে লিপ্ত হওয়াকেই তার গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখে। অথচ পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ এসব অপরাধে লিপ্ত নয়। সমাজের নিম্ন ও অশিক্ষিত শ্রেণির মানুষও চুরি ও ব্যভিচার থেকে বিরত থাকে। বেশির ভাগ মানুষ যে অপরাধে লিপ্ত তা হলো, আত্মার ব্যাধি বা অন্তরের পাপ। পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে অন্তরের পাপগুলো যথা ঈমানহীনতা, অহংকার, হিংসা, প্রদর্শন, মোহ, দাম্ভিকতার মতো অপরাধই বেশি দায়ী।’

আত্মার ব্যাধি ভয়ংকর : আল্লামা ইবনে কায়্যিম (রহ.) বলেন, ‘অন্তরের হারাম কাজগুলো ব্যভিচার, মদপান বা এ জাতীয় নিষিদ্ধ কাজের চেয়ে বেশি হারাম। কেননা তাতে মানবাত্মা রোগগ্রস্ত হয়। আর অন্তরের রোগ শরীরের রোগের চেয়ে ক্ষতিকর।’

 

কোরআন-হাদিসের বর্ণনায় আত্মার ব্যাধি

কোরআন ও হাদিসের একাধিক স্থানে অন্তরের ব্যাধির ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যেমন—

১.   আল্লাহকে ভয় না করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? মূলত আল্লাহর পাকড়াও থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই নিশ্চিত হতে পারে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৯৯)

২.   নিরাশ হওয়া : আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হওয়ার ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর রহমত থেকে ভ্রষ্ট ব্যক্তিরাই নিরাশ হয়ে থাকে।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৫৬)

৩.   মন্দ ধারণা পোষণ : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা অধিক পরিমাণ ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপতুল্য।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১২)

৪.   অহংকার : অহংকারের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেন, ‘যার অন্তরে এক মিসকাল পরিমাণ অহংকার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম)

৫.   অন্যকে তাচ্ছিল্য করা : রাসুলে আকরাম (সা.) বলেন, ‘ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে তার কোনো মুসলিম ভাইকে তাচ্ছিল্য করবে।’ (সহিহ মুসলিম)

আত্মার ব্যাধির ব্যাপারে উদাসীনতা নয় : সমাজের বেশির ভাগ মানুষ অন্তরের ব্যাধি সম্পর্কে অসচেতন। আল্লাহ এই আত্মবিমুখতা সম্পর্কে বলেন, ‘তারা দেখবে তাদের দুষ্কর্মগুলো। তা তাদের ঘিরে ফেলবে। (অথচ) এসব বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত।’ (সুরা ঝুমার, আয়াত : ৪৮)

আত্মার ব্যাধি থেকে বাঁচার উপায় : অন্তরের ব্যাধিগুলো থেকে আত্মরক্ষার উপায় হলো, আল্লাহর কাছে তাওবা করা। ভালো কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। সৎ চিন্তা ও ভালো কাজের ইচ্ছা নিজের ভেতর জাগ্রত করা। বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর জিকির করা। সর্বোপরি আল্লাহর সাহায্য কামনা করা। স্বয়ং রাসুলে আকরাম (সা.) সুস্থ হৃদয় লাভের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করতেন। তিনি বলতেন, ‘হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে সুস্থ ও অনুগত অন্তর প্রার্থনা করছি।’ (সুনানে তিরমিজি)

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা।



সাতদিনের সেরা