kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

উম্মতে মুহাম্মদির জন্য আল্লাহর দুই উপহার

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের ভুল-ভ্রান্তিগুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং ক্ষমা করে দিয়েছেন যে কাজ করতে তাদের বাধ্য করা হয়।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ১৪৮৭১)

উল্লিখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের প্রতি আল্লাহর বিশেষ দুটি অনুগ্রহের কথা বর্ণনা করেছেন। তা হলো আল্লাহ এই উম্মতের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন এবং যে কাজে তাকে বাধ্য করা হয়েছে তাও ক্ষমা করে দেবেন।

 

আল কোরআনে ক্ষমার ঘোষণা

হাদিসে যে দুই ধরনের ব্যক্তিকে ক্ষমা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে পবিত্র কোরআনেও তাদের ক্ষমা করার ঘোষণা এসেছে। ভুলবশত কোনো কাজ হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ বলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের পাকড়াও করবেন না যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করি।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৬)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই যা তোমরা ভুলবশত করে থাকো কিন্তু তোমাদের অন্তরে তার ইচ্ছা থাকলে গুনাহ হবে।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫)

আর কাউকে কোনো কাজে বাধ্য করা হলে তার ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে তার জন্য নয়, যাকে কুফরির জন্য বাধ্য করা হয় কিন্তু তার অন্তর ঈমানের প্রতি অবিচল।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১০৬)

 

ক্ষমা লাভের শর্ত

আল্লাহ কর্তৃক উল্লিখিত ক্ষমা লাভের জন্য আলেমরা নিম্নোক্ত শর্তগুলো আরোপ করেন—

১. ভীতি প্রদানকারী এমন শক্তিধর হওয়া যে সে যে শাস্তির ভয় দেখায় তা কার্যকর করতে সে সক্ষম।

২. যাকে বাধ্য করা হয় সে এমন দুর্বল হওয়া যে সে বলপ্রয়োগকারীকে প্রতিহত করতে অক্ষম।

৩. এ ক্ষমতা প্রয়োগ এতটা কষ্টদায়ক হওয়া, যা সহ্যের বাইরে।

৪. এমন ধারণা হওয়া বা জানা যে যার ওপর বলপ্রয়োগ হচ্ছে বলপ্রয়োগকারীর পক্ষ হতে সহসাই তার ওপর শাস্তি আরোপিত হবে।

৫. ক্ষমা লাভের জন্য ভুলবশত হওয়া আবশ্যক। ভুল করা আর ভুলবশত করা এক কথা নয়। (হাদিসের আলোয় জীবন গড়ি, পৃষ্ঠা ৩২৮)

আল্লাহ আমাদের সব অপরাধ ও গুনাহ ক্ষমা করেন। আমিন।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা।



সাতদিনের সেরা