kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

প্রবাসীর পক্ষ থেকে কোরবানি করার নিয়ম

সাআদ তাশফিন   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কোরবানি। এটি শাআইরে ইসলাম তথা ইসলামের প্রতীকী বিধানাবলির অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবছর কোরবানি করতেন। যাদের ওপর জাকাত ওয়াজিব, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। পার্থক্য হলো, জাকাতের জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ মালিকের কাছে পূর্ণ এক বছর থাকলে জাকাত ওয়াজিব হয়। আর কোরবানির ক্ষেত্রে কোরবানির দিনগুলো তথা জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে কারো কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। সে হিসেবে অনেক লোক এমনও পাওয়া যায়, যাদের ওপর জাকাত ওয়াজিব না হলেও কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে। তাই কোরবানি করার ক্ষেত্রে পরিবারে যাদের যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকেই কোরবানি করতে হবে। করোনা মহামারির কারণে এখন কোরবানির চিত্র অনেক ভিন্ন। কেউ কেউ নিরাপত্তাজনিত কারণে বড় পশু কোরবানি না করে ছোট পশু কোরবানি দিচ্ছে। কেউ আবার গ্রামের বাড়ি কিংবা ভিন্ন জায়গায় অন্য কারো মাধ্যমে নিজের কোরবানির পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। যাঁরা প্রবাসে থাকেন, তাদের পক্ষ থেকে তো প্রতিবছরই দেশে কোরবানি দেওয়া হয়। প্রবাসীর পক্ষ থেকে দেশে কোরবানি দেওয়াতে ইসলামের নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে প্রবাসীর কোরবানির পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কোরবানির সময়ের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কোরবানিদাতার দেশ অনুযায়ী জিলহজের ১০ তারিখ সুবহে সাদিকের পর তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। ওই সময়ের আগে তার কোরবানির পশু জবাই করে ফেললে কোরবানি আদায় হবে না। তাই যেসব দেশ সময়ের দিক থেকে আমাদের  পেছনে, সেসব দেশের প্রবাসীর কোরবানির পশু কোরবানি করার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে, তার দেশের সময় অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক অতিবাহিত হয়েছে কি না। (বাদায়েউস সানায়ে : ৬/২৮৫, কিফায়াতুল মুফতি : ৮/১৮৬, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/২০৪)

এ ক্ষেত্রে প্রবাসীর পক্ষ থেকে কোরবানি করার আগে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তার দেশের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কোরবানি করা যেতে পারে।

আবার কোনো প্রবাসী যদি বাংলাদেশি আত্মীয়ের পক্ষ থেকে বিদেশেই কোরবানি করতে চায়, তাহলেও বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক পার হওয়ার আগে কোরবানি করতে পারবে না। যেমন—কোনো সৌদি প্রবাসী যদি তার বাংলাদেশি আত্মীয়ের পক্ষ থেকে সে দেশে কোরবানি করতে চায়, তাহলে অবশ্যই তাকে একদিন পর কোরবানি করতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সময়ের মধ্যে এক দিনের পার্থক্য থাকে। যদি সৌদি প্রবাসী তার বাংলাদেশি আত্মীয়ের নামে বাংলাদেশে জিলহজের ১০ তারিখের সুবহে সাদিক হওয়ার আগেই কোরবানি করে দেয়, তাহলে কোরবানি আদায় হবে না।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পদ্ধতিতে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন।