kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

নবী-জীবনী

হিজরত ঠেকাতে মক্কার কাফিরদের তিন কৌশল

আতাউর রহমান খসরু   

১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হিজরত ঠেকাতে মক্কার কাফিরদের তিন কৌশল

আকাবার দ্বিতীয় শপথের পর নবীজি (সা.)-কে স্বপ্নযোগে হিজরত ভূমি দেখানো হয়। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মক্কা থেকে এমন এক জায়গার দিকে হিজরত করছি, যেখানে খেজুরগাছ আছে। তখন আমার ধারণা হলো, সেই জায়গাটি ‘ইয়ামামা’ অথবা ‘হাজার’ হবে। অথচ সে জায়গাটি মদিনা তথা ইয়াসরিব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭০৩৫)

অন্যদিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসে, ‘যারা অত্যাচারিত হওয়ার পর আল্লাহর পথে হিজরত করেছে আমি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে উত্তম আবাস দেব এবং আখিরাতে পুরস্কারই তো শ্রেষ্ঠ। হায়, তারা যদি তা জানত।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৪১)

আল্লাহর পক্ষ থেকে হিজরতের নির্দেশনা আসার পর মহানবী (সা.) সাহাবিদের হিজরতের অনুমতি দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ভাই ও বাড়ি দান করেছেন, যেখানে তোমরা নিরাপদ থাকবে।’ হিজরতের অনুমতি পাওয়ার দুই মাস কয়েক দিনের মধ্যে মক্কায় নবীজি (সা.), আবু বকর (রা.), আলী (রা.) এবং কয়েকজন অসহায় মুসলিম ছাড়া অন্যরা হিজরত করে মদিনায় চলে যান। আবু বকর (রা.) হিজরতের অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়া কোরো না, আল্লাহ হয়তো তোমার জন্য একজন সঙ্গী নির্ধারণ করে দেবেন।’ (খাতামুন নাবিয়্যিন, পৃষ্ঠা ৪৪৯; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৬৯; আর-রাসুল, পৃষ্ঠা ১১১)

মুসলিমদের মদিনায় হিজরত করা নিয়ে মক্কার মুশরিকরা নানা কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়ে। কেননা মদিনার উপকূল দিয়ে তাদের বাণিজ্যিক কাফেলা যাতায়াত করত। এ ছাড়া আউস ও খাজরাতের বীরত্বের স্বীকৃতি ছিল আরবজুড়ে। তারা আশঙ্কা করছিল মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে মুসলিমরা মক্কাবাসীর কাজ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। (আর-রাসুল, পৃষ্ঠা ১১০)

তাই মক্কার মুশরিকরা সাহাবিদের নির্বিঘ্নে হিজরত করতে দেয়নি। তারা প্রধানত তিনভাবে মুসলিমদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তা হলো—

১. স্ত্রী-সন্তানদের রেখে দেওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুধভাই আবু সালামা (রা.) মদিনায় হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হলে অবিশ্বাসীরা তার সন্তান ও স্ত্রীকে আটকে রাখেন।

২. সম্পদ কেড়ে নেওয়া : সোহাইব (রা.) যখন হিজরতের ইচ্ছা করেন তখন মক্কার মুশরিকরা বলে তুমি মক্কায় এসেছিলে নিঃস্ব অবস্থায় এখন তোমার সম্পদ হয়েছে। আমরা তোমাকে সে সম্পদ নিয়ে যেতে দেব না। তিনি তার সমুদয় সম্পদ ছেড়ে মদিনায় চলে যান। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ঘটনা শুনে বলেন, সোহাইব লাভবান হয়েছে।

৩. বন্দি করে রাখা : ওমর (রা.) সঙ্গে হিজরত করতে আগ্রহী ছিলেন আইয়াশ ইবনে আবি রাবিয়া ও হিশাম ইবনে আস (রা.)-এর। পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে পৌঁছার আগেই হিশাম (রা.)-কে বন্দি করা হয় এবং আইয়াশ (রা.)-কে প্রতারণার মাধ্যমে ফিরিয়ে নিয়ে বন্দি করা হয়। (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৮)

সব বাধা উপেক্ষা করে যারা সে সময় মদিনায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন ওমর, তালহা, হামজা, জায়েদ ইবনে হারিস, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, জোবায়ের ইবনুল আওয়াম, আবু হুজায়ফা, উসমান ইবনে আফফান (রা.) প্রমুখ। বেলাল ও আম্মার ইবনে ইয়াসার (রা.) হিজরতকারীদের মধ্যে অগ্রগামী ছিলেন। (নবীয়ে রহমত, পৃষ্ঠা ১৭; মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস : ১/৩৮৩)

ইসলামের জন্য ঘর, পরিবার ও সম্পদ ত্যাগকারী মুহাজিরদের প্রশংসায় পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এই সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি হতে উত্খাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাহায্য করে। তারাই তো সত্যাশ্রয়ী।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ৮)



সাতদিনের সেরা