kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

নওমুসলিমের কথা

জার্মান কূটনীতিক হার্বার্ট হাবোম যে কারণে মুসলিম হন

৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জার্মান কূটনীতিক হার্বার্ট হাবোম যে কারণে মুসলিম হন

জার্মান নাগরিক হার্বার্ট হাবোমের জন্ম ২২ অক্টোবর ১৯২৬ সালে। পেশায় একজন কূটনীতিক, ধর্মপ্রচারক ও সমাজকর্মী ছিলেন। কূটনৈতিক মিশনে বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। ১৯৩৯ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মুহাম্মদ আমান হাবোম নাম ধারণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংকটময় সময়ে জার্মানিতে অবস্থান করে মুসলিমদের সংঘবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২৮ অক্টোবর ২০১৪ সালে তিনি মারা যান। নিজের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন—

 

অনেকেই প্রশ্ন করেন পশ্চিমারা কেন ইসলাম গ্রহণ করছে? এর পেছনে বহু কারণ রয়েছে। প্রথমত, সত্যের একটি নিজস্ব শক্তি রয়েছে। ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলো এতই যুক্তিযুক্ত, প্রাকৃতিক ও আবেদনময়ী যে কোনো সত্যানুসন্ধানীর পক্ষে তা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে উপায় থাকে না। যেমন একেশ্বরবাদ, যা কত চমৎকারভাবে মানুষের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে, মানুষের দাসত্ব থেকে আমাদের মুক্তি দেয় এবং মানবসমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে। কেননা সব মানুষ অভিন্ন স্রষ্টার বান্দা। বিশেষত জার্মানদের জন্য স্রষ্টায় বিশ্বাস উৎসাহ, নির্ভীকতা ও নিরাপদ জীবনবোধের উৎস হতে পারে।

এরপর আসা যাক মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের কথায়। এই বিশ্বাসের দাবি হলো, পৃথিবীর জীবন মানুষের প্রধান লক্ষ্য নয়। বিচার দিবসে বিশ্বাস একজন মানুষকে মন্দ কাজ পরিহারে এবং ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করে। আল্লাহর বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অভ্যন্তরীণ বোধ ও বিশ্বাস পৃথিবীর যেকোনো দক্ষ নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়ে বেশি কার্যকর। তবে পশ্চিমারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে ইসলামের সহনশীলতার জন্য। এ ছাড়া প্রতিদিনের ইবাদত মানুষকে সময়নিষ্ঠ করে এবং এক মাসের রোজা আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। আর কোনো সন্দেহ নেই সময়ানুবর্তিতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ সভ্য ও মহান মানুষের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য।

এবার আসা যাক মূল আলোচনায়। ইসলাম একমাত্র ধর্ম যে তার অনুসারীদের ওপর কোনো প্রকার বাহ্যিক বিধি-নিষেধ ছাড়া নৈতিক ও চারিত্রিক সীমারেখা আরোপ করতে সক্ষম হয়েছে। যেহেতু একজন মুসলিম বিশ্বাস করে সে যেখানেই থাকুক আল্লাহ তাকে দেখছেন—এই বিশ্বাস তাকে সর্বপ্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর মানবপ্রকৃতি ভালো কাজে তৃপ্তি পায়। সুতরাং ইসলামের ছায়াতলে এসে মানুষের হৃদয় ও আত্মা প্রশান্তি খুঁজে পায়। পশ্চিমা সমাজে যা পুরোপুরি অনুপস্থিত।

আমি পৃথিবীর বিচিত্র জীবনধারার মধ্যে বসবাস করেছি। সুযোগ পেয়েছি বিভিন্ন মতবাদ ও মতাদর্শ নিয়ে পড়ালেখা করার। আমার পর্যবেক্ষণ হলো পৃথিবীর কোনো মতবাদ ও জীবনবিধান ইসলামের মতো মানুষের উপযোগী নয়। সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, নাৎসিবাদ কোনোটাই পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান নয়, ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ইসলাম কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি প্রায়োগিক। ইসলাম খণ্ডিত নয়, ইসলাম হলো আল্লাহর কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করার নাম।

ইসলাম আওয়ার চয়েজ ও সৌদি গেজেট অবলম্বনে মো. আবদুল মজিদ মোল্লা

 



সাতদিনের সেরা