kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত

মোঃ জহিরুল আলম শাহীন   

২৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত

আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে বহু নিয়ামত দান করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম নিয়ামত হলো মৌসুমি ফল। ফলফলাদির মর্যাদা, গৌরব ও মহত্বের নিদর্শনবাহী। কোরআনে নানা ফলফলাদির কথা এসেছে। এক আয়াতে এসেছে, ‘তিনি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য মাটিকে করেছেন বিছানা, আকাশকে ছাদ এবং আসমান থেকে নাজিল করেছেন বৃষ্টি। অতঃপর তার মাধ্যমে উৎপন্ন করেন ফলফলাদি—তোমাদের জন্য রিজিকস্বরূপ।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২)

আমরা প্রতিদিন জীবিকা নির্বাহের জন্য যে ফলমূল খেয়ে থাকি তা আল্লাহর অপার দয়া ও মায়ার দান। আমাদের জন্য এক অনুপম নিয়ামত। এসব ফলফলাদি শুধু ইহকালে নয়, পরকালেও থাকবে। অনন্ত সুখের উৎস জান্নাতেও থাকবে নানা রকমের ফলফলাদি। জান্নাতের খাবারের বিবরণ দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তাতে আছে ফলমূল—খেজুরের গাছ, যার খেজুর আবরণযুক্ত।’ (সুরা : আর-রাহমান, আয়াত : ১১)

ফলাফলাদির মতো উত্কৃষ্ট খাবার আর নেই এবং এর গুরুত্বও শেষ নেই। মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে তাঁর উত্তরসূরি ও বংশধরদের জন্য রিজিকের দোয়া করেছেন। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন, ‘হে আমার রব, আপনি একে নিরাপদ নগরী বানান এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের রিজিক দিন, যারা আল্লাহ ও আখিরাতের দিবসে ঈমান এনেছে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৬)

মৌসুমি ফল শুধু মানুষ নয়, অন্য প্রাণীরাও এসব ফল খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আসলে মৌসুমি ফলফলাদির উপকারের কথা শেষ করার মতো নয়। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ ও পশু-পাখির শরীরে রোগের প্রতিরোধক হিসেবে মৌসুমি ফলফলাদির চেয়ে বেশি কার্যকর আর কোনো ওষুধ নেই। টাটকা তরতাজা ফল খেলে শরীরে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। শরীরে তৈরি হওয়া বিষাক্ত টক্সিন বের করে ফেলে। ফলে কোনো রোগজীবাণু সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। এগুলো সেবন করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত। আমাদের জন্য এসব চিন্তার বিষয়। এসব চিন্তার মাধ্যমে আমাদের ভেতরে তাওহিদি শক্তি বা ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মহান আল্লাহর একত্বতা গভীরভাবে প্রকাশ পায়—তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এগুলো নিয়ে ঈমানদারদের চিন্তা-ভাবনা করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তিনি (আল্লাহ) আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, তারপর আমি (আল্লাহ) এ পানি দিয়ে সব ধরনের উদ্ভিদ জন্মানোর ব্যবস্থা করি, তারপর তা থেকে সবুজ শ্যামল ক্ষেত ও বৃক্ষ সৃষ্টি করি, পরে তা থেকে পরস্পর জড়ানো ঘন শস্যদানাও সৃষ্টি করি, আর খেজুরগাছের মাথি থেকে খেজুরের গাদির পর গাদির সৃষ্টি করি, যা বোঝার ভারে নুয়ে পড়ে। আর তিনি (আল্লাহ) সজ্জিত করেছেন আঙুর, জলপাই আর ডালিমের বাগান, এসবের ফল পরস্পরের সঙ্গে সাদৃশ্যও থাকে আবার প্রত্যেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যের হয়েও থাকে। গাছগুলো যখন ফলবান হয় তখন ফল ধরা ও তা পাকার অবস্থা একটু গভীরভাবে তাকিয়ে পর্যবেক্ষণ করো। এসব জিনিসের মধ্যে ঈমানদারদের জন্য বহু নিদর্শন আছে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৯৯)

আসুন, আমরা এসব ফলফলাদি পরিমাণমতো গ্রহণ করি এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।

লেখক : শিক্ষক, ফুলসাইন্দ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ গোলাপগঞ্জ, সিলেট

 



সাতদিনের সেরা