kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

যেসব আমলে মৃতরা উপকৃত হয়

মাইমুনা আক্তার   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুনিয়াতে আমাদের জীবিত আত্মীয়-স্বজনের জন্য যেমন আমাদের অনেক কিছু করণীয় আছে, তেমনি মৃতদের জন্য আমাদের অনেক কিছু করার আছে। যেগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহ চাইলে তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারেন এবং তাদের সওয়াবের পাল্লা ভারী করে দিতে পারেন। নিম্নে এমন কিছু আমল তুলে ধরা হলো—

দোয়া : মৃতদের জন্য জীবিতদের যা কিছু করণীয় আছে, তন্মধ্যে অন্যতম হলো দোয়া। যা যে কেউ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে খুব সহজেই করতে পারে। এর জন্য কোনো অর্থ খরচ হয় না, এমনকি খুব একটা কষ্টও করতে হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো লোক মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন ধরনের আমল (জারি থাকে)। (প্রথম) সদকা জারিয়া (চলমান সদকা); (দ্বিতীয়) ওই ইলম, যা দ্বারা অন্য লোক উপকৃত হয়; (তৃতীয়) নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (নাসায়ি, হাদিস : ৩৬৫১)

উক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, জীবিতরা তাদের মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া করলে তা মৃতদের উপকারে আসে।

সদকা : মৃতদের ঈসালে সওয়াব করার একটি উত্তম পদ্ধতি হতে পারে সদকা। কারো সামর্থ্য থাকলে দান-সদকার মাধ্যমে মৃত আত্মীয়দের ঈসালে সওয়াব করা যেতে পারে।

কোরআন তিলাওয়াত : মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃতদের জন্য সুরা ইয়াসিন পাঠ করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১২১)

অতএব নিজের মৃত আত্মীয়দের ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে কাউকে দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করানো উচিত নয়।

কোরবানি : মৃতদের পক্ষ থেকে নফল কোরবানি করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা কোরবানির দিনগুলোতে নিজেদের মৃত আত্মীয়-স্বজনের নামে নফল কোরবানি করেও ঈসালে সওয়াব করতে পারে। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩৩৫, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/২১১)

হজ : সামর্থ্য ও সুযোগ থাকলে মৃত আত্মীয়-স্বজনের ঈসালে সাওয়াবের নিয়তে হজ-ওমরা ইত্যাদি করা যেতে পারে। বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক নারী এসে জিজ্ঞেস করল, ...আমার মা হজ না করে ইন্তেকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারব? তিনি বলেন, (হ্যাঁ), তুমি তার পক্ষ থেকে হজ করো। (তিরমিজি, হাদিস  : ৯২৯)

ওমরাহ : অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল হলো, ওমরাহ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরাহ পরপর একত্রে আদায় করো। এ দুটো দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয় যেমন হাঁপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর করে দেয়। (তিরমিজি, হাদিস : ৮১০)

এ ছাড়া মিসকিনদের খাবার দেওয়া, নফল নামাজ পড়া, চিকিৎসাসেবাসহ যেকোনো সওয়াবের কাজ করেই মৃতদের জন্য ঈসালে সওয়াব করার সুযোগ আছে। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, এতে যেন কোনো নাজায়েজ, বিদআত ও কুপ্রথার অনুপ্রবেশ না ঘটে। আল্লাহর আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন।

 



সাতদিনের সেরা