kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

পরিবারে দ্বিনি দাওয়াত যেভাবে ফলপ্রসূ হয়

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাওয়াতের প্রথম ও প্রধান ক্ষেত্র পরিবার। নবী-রাসুলরা দাওয়াতের ক্ষেত্রে নিজ পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.)-এর নবুয়ত লাভের পর সর্বপ্রথম ইসলাম কবুল করেছিলেন তাঁর স্ত্রী খাদিজা (রা.)। ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতা আজরকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আপনি কি (আল্লাহকে বাদ দিয়ে) মূর্তিগুলোকে উপাস্য গণ্য করে নিয়েছেন? আমি তো দেখছি আপনি ও আপনার সম্প্রদায় স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে আছেন।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৭৪)

লোকমান (আ.) তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘হে বৎস, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় পাপ।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ১৩)

লোকমান (আ.) নিজ সন্তাকে বহু উপদেশ দিয়েছিলেন। সেগুলো থেকে পবিত্র কোরআনে ১৬টি উপদেশ আনা হয়েছে। উপদেশগুলো একটি সন্তানের জীবন পরিচালনা ও আখিরাতে মুক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাসুল (সা.) সব মা-বাবাকে সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাত শিক্ষার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দাও এবং যখন তারা ১০ বছর বয়সে উপনীত হয় তখন সালাতের জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের শয্যা পৃথক করে দাও।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)

পরিবারে দ্বিনি দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য জাহান্নামের মর্মন্তুদ শাস্তি থেকে নিজেকে ও নিজ পরিবারকে বাঁচানো। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে বাঁচাও, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হূদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতারা। আল্লাহ যা আদেশ করেন তারা তা অমান্য করে না। তারা তা-ই করে, যা করতে তাদের আদেশ করা হয়।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৬)

কিন্তু দুঃখজনক যে আমরা আমাদের পরিবার সম্পর্কে উদাসীন। নিজেরা ধর্ম পালন করলেও পরিবারের প্রতি বেখেয়াল। বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনায় হাবুডুবু খাচ্ছে সমাজের বেশির ভাগ পরিবার। এই করুণ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পরিবারে দাওয়াত ও তাবলিগের কোনো বিকল্প নেই এবং নিজেদের কর্মে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবারের অধীনরা কর্তাব্যক্তির কর্ম দেখে শিখবে। অনেক মা-বাবা আছেন, যাঁরা ছেলে-মেয়েদের শুধু আদেশ করেন; কিন্তু নিজে সে আমল করেন না। ছেলে-মেয়েদের ইসলামী পোশাকের কথা বলেন, কিন্তু নিজের পোশাক ইসলামী নয়। এ ক্ষেত্রে এই আদেশ বা দাওয়াত কখনো ফলপ্রসূ হবে না। আগে নিজে সংশোধন হতে হবে, অতঃপর পরিবারে তা বাস্তবায়নের জন্য উপদেশ দিতে হবে। এ জন্য নিয়মিত সাপ্তাহিক পারিবারিক ধর্মীয় বৈঠক চালু করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।

 



সাতদিনের সেরা