kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার তাগিদ

মুফতি তাজুল ইসলাম   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্তানদের সমান চোখে না দেখলে তাদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। তাই পারিবারিক শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সব সন্তানকে সমান চোখে দেখতে হবে। এ বিষয়ে কোরআনে এসেছে : ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন। আর তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯০)

বেশির ভাগ মানুষের কিছু না কিছু সম্পদ থাকে। অনেকে মৃত্যুর সময় কোনো কোনো সন্তানকে সম্পত্তিতে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। এতে অন্যরা বঞ্চিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো কোনো ব্যক্তি ৭০ বছর যাবৎ (গোটা জীবন) নেক আমল করে। কিন্তু অসিয়ত করার সময় জুলুম করে। তখন একটি খারাপ কাজের মাধ্যমে তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ফলে সে জাহান্নামে যায়। আর কোনো কোনো ব্যক্তি ৭০ বছর যাবৎ (গোটা জীবন) খারাপ কাজ করে। কিন্তু অসিয়ত করার সময় সে ইনসাফ করে। তখন একটি ভালো কাজের মাধ্যমে তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ফলে সে জান্নাতে যায়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৮৬৭; তিরমিজি, হাদিস : ২১১৭)

দান করা বা কোনো কিছু দেওয়ার ক্ষেত্রেও সন্তানদের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে। নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলেন এবং বলেন, আমি আমার এ ছেলেকে একটি গোলাম (চাকর) দান করেছি। রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি তোমার সব সন্তানকেই এমন দান করেছ? পিতা জবাব দিলেন, না। রাসুল (সা.) বলেন, তাহলে এ গোলাম ফেরত নিয়ে নাও।’ (বুখারি, হাদিস : ২৫৮৬)

হাদিসের প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের মধ্যে ‘ইবনে মাজাহ’ ছাড়া বাকি পাঁচটিতেই ওপরে উল্লিখিত হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে : ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ কায়েম করো।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬২৩)। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে : ‘...যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ন্যায্য কথা বলবে—যদিও তা স্বজনদের সম্পর্কে হয়। আর আল্লাহপ্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৫২)

সন্তানদের জন্য কিছু সঞ্চয় করাও ইসলামের শিক্ষা। সন্তানদের কারো মুখাপেক্ষী রেখে যাওয়া মহানবী (সা.) কখনোই পছন্দ করেননি। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের মানুষের করুণার মুখাপেক্ষী রেখে যাওয়ার চেয়ে তাদের সচ্ছল রেখে যাওয়াই উত্তম।’ (বুখারি : ১/৪৩৫; মুসলিম : ৩/১২৫১)। কিন্তু ওয়ারিশদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে সবাই কমবেশি অসিয়ত করে। এ অসিয়তের মাধ্যমে যদি কোনো উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চিন্তা থাকে, তাহলে এমন অসিয়ত ইসলামে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘...এটা (উত্তরাধিকার সম্পত্তির বণ্টন) অসিয়ত আদায় ও ঋণ পরিশোধের পর (কার্যকর হবে), যদি অসিয়ত কারো জন্য ক্ষতিকর না হয়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও অশেষ সহনশীল।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১২)

 



সাতদিনের সেরা