kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

সমাজে ইসলাম পরিপালনের সুফল

বেলায়েত হুসাইন   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলাম নিছক কোনো ধর্মাদর্শ নয়; বরং তা জীবনবিধান। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইসলামী জীবনবিধানকে সৌভাগ্য অর্জনের মাধ্যম ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ এসব বিধান বর্ণনা করে তোমাদের জন্য সৌভাগ্যের পথ স্পষ্ট করতে চান, পূর্ববর্তীদের জীবন-চরিত্র তুলে ধরতে চান এবং আল্লাহ তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে পুনরায় তোমাদের অনুগ্রহ করতে চান।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ২৬)

সমাজে কোরআনে বর্ণিত এসব বিধি-বিধান বাস্তবায়নকারীদের দুনিয়া ও আখিরাতে পৃথক পৃথক সুফল রয়েছে। ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী অনুশাসন ও বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করে মুসলিম শাসকরা পৃথিবীতে বহুবিধ সুফল ভোগ করেছেন। উমাইয়া, আব্বাসীয়, মোগল, সেলজুক, ফাতেমি ও উসমানীয় শাসন তার প্রমাণ। যদিও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম পরিপালনে তারা শতভাগ আন্তরিক ছিল না। ন্যূনতম দায়িত্বশীল আচরণ করেছে সেসব সুফলের কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো—

পৃথিবীর প্রতিনিধিত্ব দান

তাঁরা খেলাফত ও সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেছেন। বেশির ভাগ মুসলিম শাসক ব্যক্তিজীবনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইসলামী অনুশাসন উপেক্ষা করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা নিজের জীবন এবং পরিবারবর্গের ওপর ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠায় বেশ যত্নশীল ও আগ্রহী ছিলেন। এ জন্য আল্লাহ তাআলাও তাঁদের ক্ষমতাবান করেছেন এবং তাঁদের কোমরকে মজবুত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদের এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে তিনি নিশ্চিতভাবে তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের।’ (সুরা নূর, আয়াত : ৫৫)।

স্থিতিশীলতা দান

আল্লাহ মুসলিম শাসকদের মাধ্যমে তাঁর জমিনে শান্তি, স্থিতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা যুগ যুগ ধরে বহু চেষ্টার পর মানুষ অর্জন করতে পারেনি। ভারতবর্ষ, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া মাইনরের ইতিহাস তার প্রমাণ। আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে জুলুমের সঙ্গে সংমিশ্রণ করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৮২)

বিজয় দান

ইসলামী অনুশাসন মানলে আল্লাহ বান্দাকে সাহায্য ও বিজয় দান করেন। ‘আল্লাহর দ্বিনকে যে সাহায্য করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন’ এ ব্যাপারটিও বেশির ভাগ মুসলিম সম্রাটের মধ্যে কার্যকর ছিল। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী। তারা এমন যাদের আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৪০-৪১)

মানব ইতিহাসে আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেনি যে কোনো জাতি আল্লাহর হিদায়াত অনুসরণ করেছে আর আল্লাহ তাদের শক্তি-সামর্থ্য, রাজত্ব ও নেতৃত্ব দান করেননি।

মর্যাদা বৃদ্ধি 

আল্লাহর হুকুম পরিপালনে সীমাহীন মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে। জমিনে আল্লাহর দ্বিন প্রতিষ্ঠার পুরস্কার ঘোষণা করে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সমস্ত মান-মর্যাদা তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদেরই; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।’ (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত : ৮)

জনগণের আস্থা অর্জন

যে বান্দা তার রবের নির্দেশনা অনুসরণ করে তিনি মানুষের কাছে তাঁর মূল্য বাড়িয়ে দেন। ফলে তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা বেড়ে যায়।

 

ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবির প্রবন্ধ অবলম্বনে



সাতদিনের সেরা