kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

নওমুসলিমের কথা

বৃদ্ধা মুসলিম নারীর মাতৃস্নেহ আমাকে মুগ্ধ করেছিল

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফিলিপাইনের নাগরিক আবদুস সালাম তাগামোলিয়ার জন্ম একটি ক্যাথলিক খ্রিস্টান পরিবারে। শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন খ্রিস্টান সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেন। কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় মুসলিমদের সঙ্গে কাটান। মুসলমানের জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, ইবাদত তাঁকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করে। ১৯৯৪ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। সিঙ্গাপুরের ‘দ্য মুসলিম রিডার্স’ পত্রিকার জানুয়ারি-জুন, ১৯৯৬ সংখ্যায় প্রকাশিত তাঁর ইসলাম গ্রহণের বর্ণনা ভাষান্তর করেছেন মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
 

 

একজন রোমান ক্যাথলিক পরিবারের সদস্য হিসেবে শৈশব থেকেই আমি খুবই ধার্মিক ছিলাম। ধর্মোপদেশ দিতে প্রায় একজন যাজক আমাদের অঞ্চলের ধর্মসভায় আসতেন। আমি খুব মনোযোগসহ তার বক্তব্য শুনতাম এবং এই ধর্মসভার জন্য অপেক্ষায় থাকতাম। আমি হাই স্কুলে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও আমার ভেতর ধর্মের প্রতি একই ধরনের আকুলতা কাজ করত। কোটাবাটোর ‘নটর ডেম অব ডুলাওয়ানে’ থাকা অবস্থায় আমি ‘দ্য স্টুডেন্ট অব ক্যাথলিক অ্যাকশন’-এর সক্রিয় সদস্য ছিলাম। আমি কখনোই কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতাম না এবং নিয়মিত যাজকের সঙ্গে দেখা করতাম। তিনিও আমাকে স্নেহ করতেন এবং আমার প্রশংসা করতেন।

এরই ভেতর আমার কলেজে ভর্তির সময় হলো। আমি একজন স্বনির্ভর শিক্ষার্থী হিসেবেই লেখাপড়া চালিয়ে নিলাম। কোটাবাটো শহরে অবস্থিত নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করি। স্নাতক শেষ করার পর পর ‘দ্য অবলেকস অব মেরি ইমাকুলেইট’ নামক একটি মিশনারি সংগঠনের কর্মশালায় অংশ নিই। কিন্তু আমি ‘সাইকোলজিক্যাল’ (মানসিক) পরীক্ষায় ব্যর্থ হই। কিন্তু এর পর আমি আবারও চেষ্টা করি এবং উত্তীর্ণ হই। তবে এক বছর পর কোটাবাটোর বিশপের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ায় আমাকে বরখাস্ত করা হয়।

এরপর আমি জোলোর নটর ডেম স্কুলের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। কিন্তু মোরো যোদ্ধাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাত শুরু হওয়ায় ১৯৭৪ সালে মার্চের শেষভাগে আমাদের ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। আমি কোটাবাটোতে ফিরে আসি এবং একটি গৃহায়ণ প্রকল্পে যোগদান করি। আমাকে প্রকল্পের ২৭৫ জন শ্রমিকের সঙ্গে ‘ফোরম্যান’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। শ্রমিকদের ৯৫ শতাংশ ছিল মুসলিম। বাকিরা খ্রিস্টান। মুসলিমদের সঙ্গে আমি ১৩ বছর কাজ করি। শুক্রবার আমি তাদের দ্রুত ঘরে ফেরার অনুমতি দিতাম, যেন তারা জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।

১৮ বছর ধরে আমি একজন বিধবা বৃদ্ধার বাসায় বসবাস করি। তিনি আমাকে সন্তানের মতো দেখতেন এবং আমিও তাঁকে মায়ের মতো দেখতাম। তাঁর মৃত্যুর পর আমি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করতে মনোযোগী হই। আমি একাধিক সন্তান নিয়ে একজন বিধবা নারীর জীবনসংগ্রাম কাছ থেকে দেখেছিলাম। তাই থিসিসের শিরোনাম দিয়েছিলাম—‘ফেমিনিসেশন অব প্রভার্টি অ্যামঙ্গ সিলেক্টেড উইডোজ অব পাতিকুল, সুলু।’

ধর্মীয় সম্প্রীতির জায়গা থেকে ১৯৯৪ সালে আমি রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিই। কিছুদিন রোজা রাখার পর প্রশান্তি অনুভব করি এবং স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়। শেষ পর্যন্ত আমি সামাজিক বিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করতে সক্ষম হই। আল্লাহর অনুগ্রহ, মুসলিমদের সংস্পর্শ, আমার পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার পর আমি বুঝতে পারি ইসলামই সত্য ধর্ম। ফলে আমি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হই।

 



সাতদিনের সেরা