kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

মুসলিম বিশ্বে সংঘাতের নানা রূপ

ড. ইউসুফ আল-কারজাভি   

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুসলিম বিশ্বের সংঘাত ও সংঘর্ষ বিশ্লেষণ করলে তিন রূপ খুঁজে পাওয়া যায়। তা হলো—

১. বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে সংঘাত।

২. বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের যুদ্ধ।

৩. রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর যুদ্ধ ও বিদ্রোহ।

ইসলাম পারস্পরিক সব ধরনের সংঘাতকে নিষিদ্ধ ও নিরুৎসাহ করেছে। সংঘাত-সংঘর্ষের বিপরীতে বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সমঝোতাকে উৎসাহিত করেছে।

 

বিবাদ নিরসনের তিন মন্ত্র

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে আত্মকলহ ও ভ্রাতৃসংঘাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও মুসলিম বিশ্বে নানামুখী সংঘাত দেখা যায়। বিশেষত ইসলামী খেলাফতের পতনের পর মুসলিম বিশ্বের সর্বজনীন ঐক্য ভেঙে গেছে এবং বহু বিদ সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের এই সংঘাত নিরসন হতে পারে, যদি তারা তিনটি বিষয়ে একমত পোষণ করতে পারে। তা হলো—

এক. ইসলামী শরিয়তের দিকে ফিরে আসা।

দুই. অভিন্ন নেতৃত্বে ফিরে আসা। খলিফা বা ইমামের অধীনে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

তিন. অভিন্ন শাসনে ফিরে আসা। তথা দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যদিও তাদের দেশ ও আবাসভূমি ভিন্ন হয়।

ঐক্যের তিনটি বাহু প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থার মাধ্যমে। ১৯২৪ সালে ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থার পতন হলে মুসলিম বিশ্ব ক্রমেই বিভক্ত হতে থাকে এবং জাতীয়তাদী ধারণা তাদের স্বার্থ-সংঘাতে লিপ্ত করে।

 

মুসলিম বিশ্বে সংঘাত দেখা দিলে করণীয়

যখন মুসলিম বিশ্বের দুটি পক্ষ সংঘাতে লিপ্ত হয় এবং তাদের কোনো পক্ষকে সুনির্দিষ্টভাবে সত্যপন্থী বা বিভ্রান্ত বলার সুযোগ না থাকে; বরং উভয়ের স্বপক্ষে জোরালো যুক্তি থাকে, তবে এমন দুই পক্ষকে সংঘাত থেকে রক্ষার ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনদের দুই দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে; আর তাদের একদল অপর দলের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করলে যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে ফায়সালা করবে এবং সুবিচার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন। মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তি স্থাপন কোরো আর আল্লাহকে ভয় কোরো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ৯-১০)

উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ে মহান আল্লাহ সংঘাত নিরসন ও সংঘাত-পরবর্তী সময়ের জন্য কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন। যেমন—১. প্রথমেই মীমাংসা করা এবং সংঘাত থেকে রক্ষা করা, ২. অবিচারকারীকে প্রতিহত করা, ৩. সংঘাত-পরবর্তী বিচার ইনসাফের সঙ্গে করা, ৪. ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলা, ৫. পরকালীন শাস্তির ভয় করা।

 

আন্তর্জাতিক ইসলামী আদালত প্রতিষ্ঠা করা

মুসলিম বিশ্বের বিবদমান দুটি পক্ষের সংকট নিরসনের দায়িত্ব প্রধানত ইসলামী খেলাফতের খলিফার। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যেহেতু মুসলিম জাতির একক কোনো নেতা বা নেতৃত্ব নেই, তাই বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ইসলামী আদালত প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যারা মুসলিম বিশ্বের নিজস্ব সংকটগুলো সমাধান করবে। কিন্তু এ জন্য ইসলামী আদালতকে আর্থিক, রাজনৈতিক ও পেশাগত সক্ষমতা অর্জন করা প্রয়োজন হবে। যেন কেউ নির্দেশ অমান্য করলে তার শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

 

ফিকহুল জিহাদ থেকে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লার, সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর



সাতদিনের সেরা