kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

সম্পর্কের টানাপড়েন রোধে আপস-নিষ্পত্তি

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্পর্কের টানাপড়েন রোধে আপস-নিষ্পত্তি

পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কে ফাটল ধরলে করণীয় কী—এ বিষয়ে কোরআনের দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য হলো : ‘আপস-নিষ্পত্তিই শ্রেয়।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১২৮)

মানুষে মানুষে বিরোধ নিত্য দিনের ঘটনা। কিন্তু ইসলাম চায় এই বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। আনাস (রা.) বলেন, নবী (সা.)-কে বলা হলো, আপনি যদি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কাছে একটু যেতেন। নবী (সা.) তার কাছে গাধায় চড়ে গেলেন এবং মুসলিমরা তাঁর সঙ্গে হেঁটে চলল। পথ ছিল কংকরময়। নবী (সা.) তার কাছে পৌঁছলে সে বলল, ‘সরো আমার কাছ থেকে। আল্লাহর কসম, তোমার গাধার দুর্গন্ধ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।’ তাঁদের মধ্য থেকে একজন আনসারি বলল, আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর গাধা সুগন্ধে তোমার চেয়ে উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের গোত্রের এক ব্যক্তি রেগে গেল এবং দুজনে গালাগালি করল। এভাবে উভয় পক্ষের সঙ্গীরা রেগে উঠল এবং দলের সঙ্গে লাঠালাঠি, হাতাহাতি ও জুতা মারামারি হলো। (বুখারি, হাদিস : ২৬৯১)

এ ব্যাপারে এ আয়াত নাজিল হলো : ‘মুমিনদের দুই দল বিবাদে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ৯)। মানুষের বিরোধ মেটানোর প্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলারও অবকাশ আছে। উম্নে কুলসুম বিনতে উকবাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি মিথ্যাচারী নয়, যে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য ভালো কথা পৌঁছে দেয় কিংবা ভালো কথা বলে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৬৯২)। যে ব্যক্তি কারো মধ্যকার বিবাদ বা বিরোধের কথা শুনবে, তার করণীয় হলো পরস্পরের মধ্যে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া। সাহল ইবনে সাদ (রা.) বলেন, একবার কুবা নগরীর অধিবাসীদের মধ্যে লড়াই বেধে গেল। এমনকি তাদের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হলো। এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে খবর দেওয়া হলে তিনি বললেন, ‘চলো যাই তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিই।’ (বুখারি, হাদিস : ২৬৯৩)। কিন্তু স্মরণ রাখতে হবে যে অন্যায় কাজে সমঝোতা নেই। আমর বিন আওফ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘মুসলমানের মধ্যে সন্ধি ও সমঝোতা স্থাপন করা জায়েজ, তবে হালালকে হারামকারী এবং হারামকে হালালকারী সন্ধি নয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩৫৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মুসলমানদের একে অন্যের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করা জায়েজ। কিন্তু বৈধকে অবৈধ অথবা অবৈধকে বৈধ করার মতো সন্ধি চুক্তি জায়েজ নেই। মুসলমানরা তাদের একে অন্যের মধ্যে স্থিরকৃত শর্তাবলি মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করার মতো শর্ত বৈধ নয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৩৫২)

গ্রন্থনা : আহমাদ রাইদ



সাতদিনের সেরা