kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

আবু বকর (রা.) যেভাবে মুসলিম হন

মুফতি তাজুল ইসলাম   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শৈশবকাল থেকে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে আবু বকর (রা.)-এর বন্ধুত্ব ছিল। রাসুল (সা.) নবুয়তপ্রাপ্ত হওয়ার পর বয়স্ক স্বাধীন পুরুষদের মধ্য সর্বপ্রথম তিনিই ইসলাম গ্রহণ করেন। ইবনে আসির (রহ.) ‘উসদুল গাবাহ’ গ্রন্থে এতদসংক্রান্ত একটি চমকপ্রদ ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তা এখানে উদ্ধৃত হলো—

রাসুল (সা.) নবুয়তপ্রাপ্তির কিছু দিন আগে আবু বকর (রা.) কোনো এক প্রয়োজনে ইয়েমেনে যান। সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎ লাভ করেন আজদ গোত্রের জনৈক বিজ্ঞ আলেমের সঙ্গে, যিনি জাগতিক জ্ঞান ও আসমানি কিতাবের জ্ঞানে ছিলেন মহা পণ্ডিত। আবু বকর (রা.) বলেন, তিনি আমাকে দেখেই বলেন, আপনি তো হারামের অধিবাসী। তাই না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি কুরাইশি? বললাম, হ্যাঁ। আবার জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি তাইমি? বললাম, হ্যাঁ, আমি তাইম ইবনে মুররাহ গোত্রের সন্তান। তিনি বলেন, আপনার ব্যাপারে আমার আরেকটি বিষয় জানার আছে। তাই আমি আপনার পেটটি উন্মুক্ত দেখতে চাই। প্রথমে আমি তার কারণ জানতে চাই। তিনি বলেন, আমি সত্য জ্ঞানের ভাণ্ডারে দেখতে পেয়েছি যে শেষ যুগের নবী প্রেরিত হবেন হারামে তথা মক্কানগরীতে। তাঁর সহযোগী হবে এক যুবক ও এক পৌঢ়বয়সী। পৌঢ়বয়সী লোকটি হবে সুন্দর ও ক্ষীণদেহি। তার পেটে থাকবে একটি কালো তিল। বাম উরুতে থাকবে বিশেষ চিহ্ন।

আবু বকর (রা.) বলেন, অতঃপর আমি আমার পেটের ওপর থেকে কাপড় সরিয়ে দিলাম। তিনি দেখতে পেলেন আমার নাভির একটু ওপরে একটি কালো তিল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলে উঠলেন, কাবার প্রভুর শপথ! আপনিই সেই পৌঢ় ব্যক্তি। আমি আপনাকে একটি বিষয়ে সাবধান করে দিতে চাই। আমি বললাম, তা কী? তিনি বলেন, সাবধান থাকবেন, আপনি যেন হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত না হন। অতএব উত্তম দ্বিনকে আঁকড়ে ধরবেন এবং আল্লাহকে ভয় করবেন।

আবু বকর (রা.) বলেন, কাজ সেরে আমি ইয়েমেন থেকে মক্কায় ফেরার ইচ্ছা করলাম। বিদায় নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বলেন, আমি ওই নবীর শানে কিছু কবিতা রচনা করেছি, তা আপনার সামনে আবৃত্তি করতে চাই। এই বলে তিনি তা আবৃত্তি করলেন।

ইয়েমেন থেকে আমি মক্কায় আসি। এরই মধ্যে রাসুল (সা.) নবুয়তপ্রাপ্ত হয়েছেন। কুরাইশদের বড় বড় নেতাদের উকবা বিন আবু মুইত, শাইবা, রাবিআহ, আবু জাহল ও আবুল বুখতারিসহ আরো অনেকে আমার কাছে আসে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, কী ব্যাপার? আপনারা কি কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন, না নতুন কোনো কিছু প্রকাশ পেয়েছে? তারা বলল, মারাত্মক সমস্যা! আবু তালিবের এই এতিম ভাতিজা দাবি করছে, সে নাকি নবী। আপনার দিকে তাকিয়ে আমরা এখনো তাকে কিছুই করিনি। আপনি চলে আসায় তার দায়-দায়িত্ব আপনার ওপরে ছেড়ে দিলাম।

আবু বকর (রা.) বলেন, আমি আপাতত তাদের সুন্দর কথা বলে বিদায় দিই। এরপর আমি নবীজি সম্পর্কে খোঁজ নিই, তিনি কোথায় আছেন। জানতে পারলাম, তিনি খাদিজা (রা.)-এর  বাড়িতে অবস্থান করছেন। আমি খাদিজার বাড়ি গিয়ে দরজায় টোকা দিলে নবীজি বেরিয়ে এলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আপনার বাপ-দাদার ধর্ম ছেড়ে দিলেন কেন? তিনি আমাকে বলেন, হে আবু বকর, আমি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সমস্ত মানুষের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। অতএব তুমি এক আল্লাহ ও আমার নবুয়তের ওপর ঈমান আনো। আমি প্রশ্ন করলাম, আপনার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আর তা হলো ওই আলেম, ইয়েমেনে যার সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হয়েছে। আমি বললাম, সাক্ষাৎ তো কতজনের সঙ্গে হয়েছে। তিনি বলেন, যার থেকে কবিতা শ্রবণ করেছ। তখন আমি বিস্মিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, সুদূর ইয়েমেনের এই সংবাদ আপনাকে কে দিয়েছে? তিনি বলেন, ওই মহান ফেরেশতা, যিনি আগমন করতেন আমার আগের নবীদের কাছে। অতঃপর আমি বললাম, তাহলে আর দেরি কেন, আপনার হাতটি বাড়িয়ে দিন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসুল। আবু বকর (রা.) বলেন, আমার ইসলামগ্রহণে রাসুল (সা.) খুব বেশি আনন্দিত হন। (উসদুল গাবাহ : ৩/২০৮-২০৯)

 



সাতদিনের সেরা