kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

মোগল স্থাপত্য

মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মসজিদ

নামকরণের ইতিহাস   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মসজিদ

মোগল শাসনামলে নির্মিত বহু প্রাচীন স্থাপনা ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পুরনো এ স্থাপনাগুলোর অধিকাংশই নান্দনিক মসজিদ। প্রাচীন নির্মাণশৈলীর দৃষ্টিনন্দন এসব মসজিদ মোগল শাসকদের ইসলামপ্রেমের সাক্ষী হয়ে আছে শতাব্দী থেকে শতাব্দী। ফেনী সদরের শর্শদীতে নির্মিত মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মসজিদ তেমনই একটি। মসজিদটি নিয়ে লিখেছেন আবদুল্লাহ ফুআদ

 

জানা যায়, মোগল আমলের শেষ দিকে ১৭৬২ সালে বাংলার স্থলাভিষিক্ত নিজাম মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে ফৌজদার হিসেবে ফেনী অঞ্চলে নিযুক্ত করেন। কয়েক দশকের মধ্যে তিনি এ অঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তাঁর সুনাম-সুখ্যাতি আশপাশের অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ব্রিটিশদের কালো চোখ পড়ে তার প্রতি। ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের সৃষ্টি হয় মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর। একসময় এই বৈরিতা বিদ্রোহে রূপ নিলে ১৭৯০ সালে তাঁর ফৌজদারি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এলাকার জনসাধারণের ভালোবাসা রয়ে যায় মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর প্রতি। জনগণ তাঁকে ‘বীর মুজাহিদ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সেই সঙ্গে তাঁর স্মৃতিসম্মানে মোগল আমলের নির্মিত মসজিদটি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মসজিদ নামে নামকরণ করা হয়।

 

অবকাঠামো ও  স্থাপত্যকাল

বর্তমানে তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটির চার পাশে গড়ে উঠেছে প্রায় ৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সুপ্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান শর্শদী দারুল উলুম মাদরাসা। ১৯৪৩ সালে থানভি খলিফা শাহ সুফি নূর বখশ (রহ.) মাদরাসাটি শুরু করেন। চারপাশঘেরা মাদরাসা ভবনের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দর এ ছোট মসজিদটির শিলালিপিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও এর স্থাপত্যকাল ১১০০ হিজরি (১৬৯০-১৬৯১) সাল অঙ্কিত আছে।

 

প্রাচীন দেয়ালে নতুনভাবে রং করা

মূল মসজিদের সামনে আছে একটি লালচে প্রবেশপথ। প্রবেশপথের পরই আছে সমতল কিছু খালি জায়গা। এর পরই মূল মসজিদের স্থাপনা। মূল গম্বুজের ওপর কালো আকারে একটি লম্বা নকশাকৃত মিনারের মতো উঁচু অংশ আছে, যার চারপাশে ইট বসিয়ে সাজানো হয়েছে গোলাকৃতি। এ ছাড়া পূর্ব দিকের দেয়ালে একটি বড় প্রবেশমুখ ও তার দুই পাশে খিলানের আদলে নকশা করা স্থাপত্যশৈলী আছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বে শর্শদী রেলস্টেশনের অদূরে অবস্থিত এই মসজিদটি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষিত আছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটক আর মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ইবাদত ও তিলাওয়াতে মুখরিত থাকে মোগল স্থাপত্যে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি।