kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

রমজানের পর মুমিনের ৪ অবস্থা

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাস রমজান বিদায় নিয়েছে এবং মুমিনজীবনে রেখে গেছে নানারূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব। কেউ রমজানের শিক্ষা ও সৌভাগ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে আর কেউ কেউ তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পবিত্র কোরআনের ভাষায়, ‘তাদের মধ্যে কতক হতভাগা আর কতক সৌভাগ্যবান।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১০৫)

 

মুমিনের চার অবস্থা

চিন্তাশীল আলেমরা রমজানের পর মুমিনদের অবস্থাকে চার ভাগে ভাগ করেছেন। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো।

১. যারা সব সময় আল্লাহর অনুগত : অতি সৌভাগ্যবান তারা, যারা রমজানের আগেও আল্লাহভীতি ও আনুগত্যের জীবন যাপন করত এবং রমজানের পরও তারা আল্লাহমুখী জীবন যাপন করে; বরং রমজান তাদের ঈমান ও আমলের শোভা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। পবিত্র কোরআনে এমন লোকদের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা এবং বলে—তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও।’ (সুরা : হা-মিম সাজদা, আয়াত : ৩০)

করণীয় : আল্লাহ যার প্রতি অনুগ্রহ করেন তাকেই তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য করার তাওফিক দেন। এ জন্য মুমিন ইবাদত-বন্দেগি করার আত্মমুগ্ধতায় না ভুগে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে। ফলে আল্লাহ তাকে আরো বেশি ইবাদত করার তাওফিক দান করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং কৃতঘ্ন হয়ো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫২)

 

২. রমজান যাদের জীবন বদলে দেয় : রমজান মাসে মুমিন বান্দারা আল্লাহমুখী হয় এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হয়। কিছু মুমিন রমজানের এই পরিবর্তন তাদের জীবনে ধরে রাখে। অর্থাৎ রমজানে তারা অতীত জীবনের পাপ-পঙ্কিলতা থেকে তাওবা করে ফিরে আসে। এমন মানুষের ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা হলো, ‘কিন্তু যারা তাওবা করে, নিজেদের সংশোধন করে, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করে এবং আল্লাহর উদ্দেশে তাদের দ্বিনে একনিষ্ঠ থাকে, তারা মুমিনদের সঙ্গে থাকবে এবং মুমিনদের আল্লাহ অবশ্যই মহাপুরস্কার দেবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪৬)

করণীয় : এই শ্রেণির মুমিনের করণীয় হলো আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকা এবং তাঁর আনুগত্য থেকে ফিরে না আসা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদত করো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯৯)

৩. যারা রমজানের পরিবর্তন ধরে রাখতে পারেনি : বহু মুসলিমকে দেখা যায় রমজানে তারা সংযত ও আল্লাহমুখী জীবন যাপন করলেও রমজানের পর এই পরিবর্তনটা ধরে রাখতে পারে না। কোরআনের ভাষায় এই শ্রেণির মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমাদের অল্পসংখ্যক ছাড়া সবাই শয়তানের অনুকরণ করত।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৩)

করণীয় : এমন লোকদের জন্য করণীয় হলো, রমজানে জীবনে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল এবং যেভাবে সংযত জীবন যাপন করত তা অক্ষুণ্ন রাখা। কেননা আল্লাহর নির্দেশ হলো, ‘তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না, যে তার সুতা মজবুত করে পাকানোর পর তার পাক খুলে নষ্ট করে দেয়।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯২)

৪. রমজানেও যারা পাপমুক্ত ছিল না : আর কিছু মানুষ এমন, যারা রমজানেও পাপ থেকে ফিরে আসতে পারেনি। রমজানের আগে ও পরে তারা অবিরাম পাপ করে যায়। এরা চরম হতভাগা। কেমন যেন তারা আল্লাহ ও পরকালের কথা ভুলে গেছে। এসব মানুষের ব্যাপারে আল্লাহর হুঁশিয়ারি হলো, ‘আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহ তাদের আত্মবিস্মৃত করেছেন। তারাই তো পাপাচারী।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১৯)

করণীয় : এমন লোকদের করণীয় হলো, এখনই তাওবা করে আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে আসা এবং ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করা। কেননা আপাদমস্তক পাপে নিমজ্জিত ব্যক্তির জন্যও আল্লাহর ঘোষণা হলো, ‘তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন ও পাপমোচন করেন এবং তোমরা যা করো তিনি তা জানেন।’ (সুরা : আশ-শুরা, আয়াত : ২৫)

আল্লাহ সবাইকে তাঁর অনুগত জীবনযাপনের তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা