kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

ক্ষমা প্রার্থনায় শেষ হোক মাহে রমজান

মুফতি ইবরাহিম সুলতান   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্ষমা প্রার্থনায় শেষ হোক মাহে রমজান

ইস্তিগফার শব্দের অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। বান্দা তার কৃত অপরাধের জন্য যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়াকে ইস্তিগফার বলা হয়। বেশি পরিমাণে ইস্তিগফারকারীদের আল্লাহ বেশি ভালোবাসেন। এ জন্যই মহান আল্লাহ ইসলামের মৌলিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধানের পাশাপাশি সাধারণ আমলের শেষেও ক্ষমা প্রার্থনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। কেননা এর মাধ্যমে আমল পরিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত হয়।

নিম্নে যেসব বিধান ও আমলের পর ইস্তিগফারের গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সেগুলোর কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

 

রমজান শেষে ইস্তিগফার

পবিত্র মাহে রমজান নিজেকে পাপমুক্ত ও পরিশুদ্ধ করার মাস। যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও আল্লাহর ক্ষমা অর্জন করতে পারবে না, তার জন্য অপেক্ষা করছে ধ্বংস। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলোধূসরিত হোক, যে রমজান পেল কিন্তু তার গুনাহ মাফ করার আগেই তা বিদায় নিল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫)

তাই রমজান এখন শেষ মুহূর্তে। পবিত্র এই মাসজুড়ে যেসব ত্রুটি হয়েছে, এর জন্য ইস্তিগফারের বিকল্প নেই। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘পরনিন্দা রোজাকে ত্রুটিযুক্ত করে আর ইস্তিগফার রোজাকে ত্রুটিমুক্ত করে।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩৩৭১)

 

নামাজ শেষে ইস্তিগফার

আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। ইসলামের এই প্রধানতম বিধান যেন ত্রুটিমুক্ত হয় সে জন্য নবীজি (সা.) সর্বদা নামাজের পর ইস্তিগফার পাঠ করতেন। সাহবি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ শেষ করে তিনবার ইস্তিগফার করতেন এবং বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময় এবং আপনার থেকে শান্তি আসে। আপনি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী) (মুসলিম, হাদিস : ১২২১)

 

হজ শেষে ইস্তিগফার

হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। শারীরিক ও আর্থিক ইবাদতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ফরজ ইবাদতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল আমলও এটি। হজ শেষে  ইস্তিগফারের নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তাওয়াফের জন্য দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আসো, যেখান থেকে সবাই ফেরে। আর আল্লাহর কাছেই মাগফিরাত কামনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাকারী, করুণাময়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯৯)

 

অজু শেষে ইস্তিগফার

নামাজের বিশুদ্ধতা ও পবিত্র কোরআন স্পর্শ করার প্রধান শর্ত হলো অজু থাকা। অজু শেষে ইস্তিগফারের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরে নবীজি (সা.) বলেন, আর যে ব্যক্তি অজুর পর এই দোয়া পড়বে—সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক। অর্থাৎ আপনার প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করছি হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনিই একমাত্র সত্য উপাস্য। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন (তাওবা) করছি। তার জন্য তা (এই ইস্তিগফারসংবলিত দোয়া) এক শুভ্র পত্রে লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর তা সিল করে দেওয়া হয়, যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নষ্ট করা হয় না। (নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাতি, হাদিস : ৮১)

 

বৈঠক শেষে ইস্তিগফার

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো বৈঠক শেষ করে চলে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন বলতেন, ‘সুবাহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক।’ এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! এখন আপনি যে বাক্য পাঠ করলেন, তা তো এর আগে আপনি পাঠ করেননি? তিনি বলেন, মজলিসে যা কিছু (ভুলত্রুটি) হয়ে থাকে, এ কথাগুলো তার কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৫৯)

মহান আল্লাহ আমাদের ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে পবিত্র এই রমজানের সমূহ কল্যাণ অর্জনের তাওফিক দান করুন।