kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

ঈদের রাতের ইবাদত

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। চারদিকে যেন আনন্দের বন্যা বইছে। পশ্চিমাকাশে ঈদের চাদ উঁকি দিলেই এ আনন্দ পূর্ণ মাত্রা পাবে। কিন্তু এই রাত অবহেলার রাত নয়। মহান আল্লাহ এই রাতকে বিশেষভাবে মহিমান্বিত করেছেন। মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি পাঁচ রাত জেগে থাকবে, তার ওপর জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। রাতগুলো হলো—১৫ শাবানের রাত, ঈদুল ফিতরের রাত, ৮ জিলহজের রাত, ৯ জিলহজের রাত ও ঈদুল আজহার রাত।’

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে দুই ঈদের রাতে সওয়াবের নিয়তে ইবাদত করবে, তার অন্তর সেদিন মরবে না, যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে।’ (ইবনে মাজাহ)

আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা চার রাতে সব ধরনের কল্যাণের দরজা খুলে দেন। যেমন—ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত, ১৫ শাবানের রাত ও আরাফার রাত। আর তা এভাবে ফজরের আজান পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (তারিখে বাগদাদ)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি দুই ঈদের রাত জেগে থেকে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দিতেন। ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রা.) আদি বিন আরতকে বলেন, চার রাতকে খুবই গুরুত্ব দেবে। সেগুলো হলো—১ রজবের রাত, শবেবরাত, ঈদুল ফিতরের রাত ও ঈদুল আজহার রাত। মহান আল্লাহ এসব রাতে অশেষ রহমত বর্ষণ করেন (তালখিসুল খাবির)

এ রাতের অন্যতম আমল হলো চাঁদ দেখা। এটি একটি সুন্নত আমল ও ফরজে কিফায়া। চাঁদ দেখলে বা চাঁদ দেখার সংবাদ পেলে এই দোয়া পড়বে—‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াছ ছালামাতি ওয়াল ইসলাম; রব্বি ওয়া রব্বুকাল্লাহ। হিলালু রুশদিন ওয়া খায়র।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! এই মাসকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ঈমান, প্রশান্তি ও ইসলাম সহযোগে আনয়ন করুন; আমার ও তোমার প্রভু আল্লাহ। এই মাস সুপথ ও কল্যাণের।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

ঈদের রাতটি (চাঁদরাত) মুমিনদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত। তাই এই রাতে অনর্থক কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে তার যথাযথ মর্যাদা দেওয়াই একজন প্রকৃত মুমিনের কাজ।