kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

কৃষিপণ্যে জাকাতের বিধান

মুফতি তাজুল ইসলাম   

১০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের বড় একটি অংশ কৃষিপণ্যের জাকাত নিয়ে সংশয় পোষণ করে। তারা সোনা, রুপাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের জাকাত প্রদান করলেও কৃষি খাতের অর্থকরী পণ্যের জাকাতের ব্যাপারে উদাসীন। অথচ শরিয়তে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে কৃষিপণ্যেও জাকাত ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই লতা ও বৃক্ষ-বাগানগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং খেজুরগাছ, বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য, জয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন—এগুলো একে অন্যের সদৃশ ও বিসদৃশও। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় আর ফসল তোলার দিন (মিসকিনদের) তার হক দিয়ে দাও এবং অপচয় কোরো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৪১)

 

ফসলের জাকাতের বিধান

এসব বৃক্ষ ও ফল উল্লেখ করার পর মানুষের প্রতি তিনটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক. ফলফলাদি আহার করো, দুই. ফল তোলার দিন ফসলের জাকাত দাও, তিন. অপচয় কোরো না।

উল্লিখিত আয়াতে ফসল কাটার দিন গরিব-মিসকিন, দরিদ্র ও অনাথদের তাদের অধিকার দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মেই মানুষকে ধনী-দরিদ্র দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত রাখা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে কেবল ধনীরাই পেটপুরে খাবে আর গরিবরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকবে। তাই সাম্যের ধর্ম ইসলামে ধনীদের সম্পদে গরিবদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক বা অধিকার।’ (সুরা : জারিয়াত : ১৯)

আলোচ্য আয়াতে ওশর বা ফসলের জাকাতের বিধান বর্ণিত হয়েছে। তবে তার পরিমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি। এর বিস্তারিত বিবরণ হাদিসে পাওয়া যায়। হিজরতের দুই বছর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যান্য সম্পদের জাকাতের বিধান বর্ণনার পাশাপাশি ফসলের জাকাতও বর্ণনা করেছেন। সব হাদিসগ্রন্থেই এই হাদিসটি রয়েছে : ‘যেসব ক্ষেতে পানি সেচের ব্যবস্থা নেই, শুধু বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করতে হয়, সেসব ক্ষেতের উৎপন্ন ফসলের ১০ ভাগের এক ভাগ জাকাত হিসেবে দান করা ওয়াজিব। আর যেসব ক্ষেতে কূপের পানি দিয়ে সেচ করা হয়, সেগুলোর উৎপন্ন ফসলের ২০ ভাগের এক ভাগ দান করা ওয়াজিব।’ শরিয়তে জাকাত আইনের মূলনীতি হলো, যে ফসল উৎপাদনে পরিশ্রম ও ব্যয় কম, তার জাকাতের পরিমাণ বেশি আর যে ফসলে পরিশ্রম ও ব্যয় পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, জাকাতের পরিমাণও হ্রাস পায়। উদাহরণ, কেউ যদি কোনো লুক্কায়িত ধনভাণ্ডার পেয়ে বসে কিংবা সোনা-রুপা ইত্যাদির খনি আবিষ্কৃত হয়, তবে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ জাকাত হিসেবে দান করা ওয়াজিব। কেননা এখানে পরিশ্রম ও ব্যয় কম এবং উৎপাদন বেশি। এরপর বৃষ্টিবিধৌত ক্ষেতের ক্ষেত্রে ১০ ভাগের এক ভাগ ধার্য করা হয়েছে। এতে পরিশ্রম ও ব্যয় অপেক্ষাকৃত কম। তারপর সেই ক্ষেত বা ফসলি জমি, যা কূপ থেকে সেচের মাধ্যমে বা খালের পানি ক্রয় করে সিক্ত করা হয়। এতে পরিশ্রম ও খরচ বেড়ে যায়। ফলে এর জাকাত তারও অর্ধেক। অর্থাৎ ২০ ভাগের এক ভাগ ধার্য করা হয়েছে। হানাফি মাজহাব মতে, ক্ষেতের ফসল কম হোক বা বেশি, সর্বাবস্থায়ই তার জাকাত দিতে হবে।

(তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন ও ইবনে কাসির অবলম্বনে)



সাতদিনের সেরা