kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

প্রশ্ন-উত্তর

৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অজুর শেষে আকাশপানে তাকিয়ে দোয়া পড়া

প্রশ্ন : অজুর শেষে আকাশপানে তাকিয়ে দোয়া পড়ার বিধান কী? অনেকের ধারণা মতে অজুর পর পশ্চিমাকাশমুখী হয়ে দোয়াটি পড়বে। কেউ বলেন, সূর্য যখন যেদিকে থাকবে সেদিকে, কোনটি সঠিক?

লিয়াকত আলী, রংপুর

উত্তর : অজুর পর দোয়া পড়ার হাদিসটি সহিহ এবং আকাশপানে তাকিয়ে তা পড়ার কথাও হাদিসে পাওয়া যায়। তবে পশ্চিম দিকে বা সূর্যের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। (তিরমিজি, হাদিস : ৫৫, মুসনাদে আহমদ : ১/২৭৪, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৫৩)

 

নৌপথে কিবলা নির্ণয়ের কম্পাস ব্যবহার

প্রশ্ন : লঞ্চের মধ্যে কম্পাস সামনে রেখে নামাজ আদায় করা যাবে কি?

তারেক, রাজশাহী

উত্তর : আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর ইসলামের কোনো বিষয় নির্ভর করে না। সাধারণ ও স্বাভাবিক উপায়ে ইসলামের বিধান পালন করা উত্তম। তবে এগুলো আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত। তাই এগুলোর সহযোগিতা নেওয়া বৈধক্ষেত্রে বৈধ। তাই কম্পাস দ্বারা কিবলা ঠিক করে নামাজ পড়া ও সামনে রাখা বৈধ হবে, তবে জরুরি নয়। (আল মুহিতুল বুরহানি : ১/৩৯১, আল বিনায়াহ : ২/৪২২, হিন্দিয়া : ১/১০১, খাইরুল ফাতাওয়া : ২/৪২৪)

 

কারো দোষ বারবার বলে বেড়ানো

প্রশ্ন : কোনো ব্যক্তির একই দোষ কয়েকবার বা একাধিক লোকের কাছে বলার দ্বারা গুনাহ দ্বিগুণ হবে?

মোস্তাফিজুর রহমান, মিরপুর

উত্তর : কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে অন্যের কাছে ইসলাম সমর্থিত প্রয়োজন ছাড়া তার দোষ বলাকে গিবত বলে, যা সম্পূর্ণ হারাম। এভাবে যতবার বলবে প্রতিবারই পৃথক গিবত বলে গণ্য হবে। এ থেকে পরিত্রাণের রাস্তা হলো, যার দোষ তাকে অবহিত করা। এর দ্বারা সংশোধন না হলে তার বড় কাউকে তথা তার শায়খ বা ওস্তাদকে তার সংশোধনের নিমিত্তে বলা যেতে পারে। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৪১০, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪০৮, এমদাদুল ফাতাওয়া : ৪/৬৫৬, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১২/৯০)

 

তিনবার কোলাকুলি করা

প্রশ্ন : তিনবার কোলাকুলি করলে কোনো অসুবিধা আছে? কোলাকুলি আসলে কয়বার করতে হয়?

মাহফুজুর রহমান রাসেল, পান্থপথ

উত্তর : মুসলমানের পরস্পর সাক্ষাৎ হলে একে-অপরের কাঁধে কাঁধ মেলানোকে ইসলামের পরিভাষায় মুআনাকা বলে, যাকে আমরা বাংলায় কোলাকুলি বলি। উভয়ের কাঁধ শুধু একবার মেলানোই যথেষ্ট। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৯/১১৮, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১২/১২৭)

 

সোনার প্রলেপযুক্ত ঘড়ি ব্যবহার

প্রশ্ন : আমার এক আত্মীয় আমাকে একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছে। শুনেছি, এর মধ্যে সোনার প্রলেপ আছে। যদি তা সত্য হয়, তাহলে কি আমার জন্য এই ঘড়ি ব্যবহার করা জায়েজ হবে? এমনকি সোনালি রঙের ঘড়ি পরা যাবে?

ইমাম হোসেন রাসেল, নোয়াখালী

উত্তর : পুরুষের জন্য সোনা ব্যবহার করা হারাম। সেটা ঘড়ির মধ্যে হোক বা অন্য পন্থায়। তবে সোনালি রঙের বস্তু ব্যবহার করা হারাম নয়। সুতরাং আপনার ঘড়িতে সোনার প্রলেপ থাকা নিশ্চিত হলে তা ব্যবহার করা আপনার জন্য জায়েজ হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩৫৮, রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৫৫, এমদাদুল মুফতিন : ৮১৫, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/৫১৬)

 

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

 



সাতদিনের সেরা