kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

প্রশ্ন-উত্তর

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নার্সারির জাকাতের বিধান

প্রশ্ন : নার্সারির ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে কি? বর্তমানে নার্সারিতে বীজ থেকে চারা উৎপন্ন করা হয় এবং চারা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা হয়—এর ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত কী এবং নিয়ম কী?

রিপন ফরাজি, চাঁদপুর

উত্তর : নার্সারির চারা ইত্যাদির মূল্য ও বিক্রয়লব্ধ টাকা যদি নিসাব পরিমাণ হয় এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হয়, তাহলে তার জাকাত প্রদান করতে হবে। (তাবয়িনুল হাকায়েক : ১/২৯১, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৫/২৬৮)

 

লাইন ধরিয়ে, ভিড় জমিয়ে জাকাত দেওয়া

প্রশ্ন : শত শত ফকিরের ভিড় জমিয়ে ১০ থেকে ২০ টাকা করে জাকাত দেওয়া কি জায়েজ? অবশ্য কেউ যদি এভাবে না দেয়, তাহলে তারা কোথায় পাবে?

ইসহাক, মাদারীপুর

উত্তর : জাকাত ফকির-মিসকিনকে দেওয়ার জন্যই ফরজ করা হয়েছে। তবে তা দেওয়ার সময় এমন ব্যবস্থাপনা রাখা উচিত, যাতে ভিড় না হয়। কেননা এতে ফকির-মিসকিনকে অবমাননা ও হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। অন্যদিকে দাতার লোক-দেখানো ভাবও প্রকাশ পায়। বাংলাদেশের সব ফকির-মিসকিনকে একজন লোকই জাকাত দিতে পারবে, তা-ও সম্ভব নয়। তাই সাধ্যমতো ভিড় না করে যতজনকে সম্ভব দেবে। আর জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ফকির-মিসকিনদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং ভিক্ষাভিত্তিক আয়-রোজগার থেকে মুসলিম সমাজকে বিরত রাখা ধনবান ব্যক্তিদের ধর্মীয় দায়িত্ব, যা জাকাত আদায়ের বৃহত্তম উদ্দেশ্য। তাই একজন মিসকিনকে ১০ থেকে ২০ টাকা না দিয়ে তার প্রয়োজন মেটানোর পরিমাণ জাকাতের অর্থ প্রদান করা উত্তম। (হিন্দিয়া : ১/১৭১, আদ্দুররুল মুখতার : ২/২৫৮, রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৫/৩১৭)

 

রোজা অবস্থায় নস্যভিক্স ব্যবহার করা

প্রশ্ন : রোজা অবস্থায় সর্দির কারণে নাকে ‘নস্য’ টানলে রোজা হবে? ভিক্স ও নস্যর মধ্যে পার্থক্য কী?

বেলায়েত, সুনামগঞ্জ

উত্তর : রোজা অবস্থায় বাইরে কোনো পদার্থ রোজাদারের পেটে বা মগজে স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়। অতএব প্রশ্নে বর্ণিত নস্যর কোনো পদার্থ পেট বা মগজে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যাবে, অন্যথায় নয়। ভিক্স যেহেতু শরীরের ওপর মালিশ করা হয়, তাই রোজা ভাঙার প্রশ্নই আসে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/৯৩, হিন্দিয়া : ১/২০৪, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৫/৪৪৮)

 

নিরুপায় হয়ে অপবিত্র কাপড়ে নামাজ পড়া

প্রশ্ন : বাজার থেকে ঘরে ফেরার সময় পথে প্রস্রাব দ্বারা আমার কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। পথে পানির কোনো ব্যবস্থা নেই এবং ঘরে পৌঁছতে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী হবে?

মুনতাসির, রাজশাহী

উত্তর : যে কাপড়ে প্রস্রাব লেগেছে, যদি ওই কাপড়ের চতুর্থাংশ বা তার বেশি অংশ পবিত্র হয় এবং আপনার কাছে কাপড় ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকে আর ওই কাপড় ছাড়া সঙ্গে অন্য কোনো কাপড়ও না থাকে এবং ব্যবস্থা করাও সম্ভব না হয়, অন্যদিকে নামাজের সময়ও শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে এমতাবস্থায় ওই কাপড় নিয়েই ওয়াক্তের ভেতর নামাজ আদায় করে নেবে। পরে পুনরায় নামাজ পড়ার প্রয়োজন হবে না। (তাবয়িনুল হাকায়েক : ১/৯৭, এমদাদুল ফাতাওয়া : ১/৯৮, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৮৭)

 

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা



সাতদিনের সেরা