kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

রমজানে কোরআনচর্চায় মৌরিতানিয়ার ঐতিহ্য

বেলায়েত হুসাইন   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রমজানে কোরআনচর্চায় মৌরিতানিয়ার ঐতিহ্য

মৌরতানিয়া উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত একটি আরব রাষ্ট্র। সরকারিভাবে এর নাম মৌরিতানিয়া ইসলামী প্রজাতন্ত্র। এর পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে সেনেগাল, দক্ষিণ-পূর্বে মালি, উত্তর-পূর্বে আলজেরিয়া এবং উত্তর-পশ্চিমে মরক্কো নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম সাহারা। মৌরিতানিয়া শব্দের অর্থ মুরদের ভূমি। মুর উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর নাম থেকে এই নামটি নেওয়া। নোউকচোট দেশটির রাজধানী। মহাশূন্য থেকে মৌরিতানিয়ার মানচিত্র দেখতে ষাঁড়ের চোখের মতো—এ জন্য এটিকে আফ্রিকার চোখ আখ্যায়িত করা হয়।

মৌরিতানিয়ার মোট আয়তন ১০ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার। ২০১৫ সালের হিসাব মতে দেশটির জনসংখ্যা ৪১ লাখ ৮২ হাজার ৩৪১। আয়তন বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ২৯তম দেশ এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক দিয়ে এর অবস্থান বিশ্বে ২২১তম। দেশটির শতভাগ অধিবাসী মুসলিম, যাদের বেশির ভাগই সুন্নি। মৌরিতানিয়ায় পবিত্র কোরআনের হাফেজসংখ্যা প্রচুর। পবিত্র রমজান এলেই কোরআনপ্রেমী মৌরিতানিয়ানদের মধ্যে উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়। এ মাসে দেশটির মুসলমানদের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার বিস্তার রোধে বিগত রমজানে মৌরিতানিয়ার মসজিদগুলোতে মুসল্লি প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকলেও এ বছর সেটি নেই। ফলে তারাবির সালাতসহ রমজানের অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্য-সংস্কৃতি স্বাভাবিকভাবেই পালন করতে পারছে মৌরিতানিয়ানরা। রমজানে দেশটির মসজিদগুলোর সৌন্দর্য হলো, দিন-রাতে প্রায় বেশির ভাগ সময়ই সেখানে কোরআনের মজলিস কিংবা দ্বিনের যেকোনো বিষয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। বড় বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে দেশের গণ্যমান্য ইসলামী স্কলাররা এসে ধর্মীয় আলোচনা করেন।

মৌরিতানিয়ানরা সাধারণত জোহরের নামাজের আগে মসজিদে আসে। জোহর আদায়ের পরেই মূলত তারা এসব মজলিস ও সভায় অংশ নেয়। রমজানকে কোরআন মুখস্থ করার বড় সুযোগ মনে করে তারা। কোরআন মজলিসে বিভিন্ন বয়সীদের দেখা যায়, তারা তক্তা বা কাঠের বোর্ডে ধারাবাহিক আয়াত লিখে লিখে মুখস্থ করছে। বিরতি দিয়ে দিয়ে মজলিসগুলো এশা ও তারাবির আগ পর্যন্ত চলে। পুরুষরা মসজিদে আয়োজিত সম্মিলিত ইফতারে অংশ নিতে পছন্দ করে। ২০ কিংবা আট রাকাত তারাবির দুই পদ্ধতিই চালু আছে এ দেশে। সাধারণত যেসব মসজিদে খতম তারাবি হয় তারা ২৭ রমজানে কোরআন খতম করে। অনেক মসজিদে দুইবারও কোরআন খতম দেওয়া হয়।

রাজধানী নোউকচোটের সবচেয়ে বড় মসজিদে (মসজিদ-ই-নোউকচোট, ইউনেসকো স্বীকৃত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা) রমজানে প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ের ইসলামী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানগুলো মৌরিতানিয়ার সরকারি রেডিও ও টিভি সরাসরি সম্প্রচারও করে।

রমজানের শেষ দশকে এ দেশের নাগরিকরা একটু বেশিই মসজিদমুখী হয়। প্রচুর মুসল্লি ১০ দিন ইতিকাফ করে এবং এ সময়ে তারা খুব বেশি পরিমাণ কোরআন তিলাওয়াত করে। কোরআন তিলাওয়াতের এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। মৌরিতনিয়ার ইসলামী রক্ষণশীল সমাজে দিন দিন কোরআনপ্রেমী ও পবিত্র এই গ্রন্থের প্রতি আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে হিফজ মাদরাসার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সূত্র : আলজাজিরা ডটনেট



সাতদিনের সেরা