kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

নবী-জীবনী

মুশরিকদের অন্যায় অবরোধ যেভাবে ভেঙে যায়

২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মক্কার মুশরিকরা মহানবী (সা.)-কে হত্যা করার ব্যাপারে সম্মত করতে বনু হাশিম ও বনু আবদুল মুত্তালিবের ওপর যে অন্যায় অবরোধ আরোপ করেছিল, তা আড়াই থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। শুরু থেকে মক্কার বিবেকবান মানুষ ও জনসাধারণের একটি অংশ এই অবরোধের বিরোধী ছিল। কিন্তু নেতৃস্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা চুপ থাকতে বাধ্য হয়। অবরোধ আরোপের পর সেসব বিবেকবান মানুষ গোপনে বনু হাশিমকে সাহায্য করত, তাদের কাছে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিত। খাদিজা (রা.)-এর ভাতিজা হাকিম ইবনে হিজাম ছিলেন তাদের একজন। তিনি তাঁর ফুফুর জন্য গম পাঠাতেন। একবার আবু জাহাল তাঁকে গম পাঠাতে বাধা দিতে চাইলে আবুল বাখতারি তার প্রতিবাদ করেন। (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১২৮)

হিশাম ইবনে আমর ছিলেন মক্কার সম্ভ্রান্ত ও অভিজাত ব্যক্তি। তিনি প্রথম থেকেই অবরোধের বিরুদ্ধে ছিলেন। তিনিও গোপনে অবরুদ্ধ মানুষের জন্য সাহায্য পাঠাতেন। হিশাম ইবনে আমরই প্রথম এই অবরোধ ভাঙার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফাতো ভাই ও আতিকা বিনতে আবদুল মুত্তালিবের ছেলে জুহাইর ইবনে আবি উমাইয়ার কাছে যান এবং অবরোধ ভাঙার ব্যাপারে সমর্থন আদায় করেন। এরপর তিনি হিশাম মুতয়িম ইবনে আদি, আবুল বাখতারি ও জাময়া ইবনে আসওয়াদকে সম্মত করেন। পাঁচ ব্যক্তির সমর্থন লাভের পর তাঁরা হাজুন নামক স্থানে একত্র হয়ে বয়কটবিষয়ক দলিল বিনষ্ট করার অঙ্গীকার করেন। (সিরাতে মোস্তফা : ১/২৫৯)

পরদিন কুরাইশরা বৈঠকে বসলে জুহাইর ইবনে আবি উমাইয়া উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘হে মক্কাবাসী! এ তোমাদের কেমন বিচার যে আমরা সবাই মহাসুখে খাব, পান করব আর আমাদের আত্মীয় বনু হাশিম একটি দানা খাবার ও এক বিন্দু পানির জন্য হাহাকার করবে এবং তাদের প্রাণ হুমকির সম্মুখীন হবে। তাদের সঙ্গে কেনাবেচাও করা যাবে না, বন্ধ থাকবে। আল্লাহর কসম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিন্তে বসে থাকব না, যতক্ষণ না এই জুলুমসর্বস্ব চুক্তিনামা ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করতে পারছি।’ জুহাইরকে সমর্থন দেন বাকি চারজন এবং তারা চুক্তির ব্যাপারে নিজেদের অসন্তোষ ও সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেন। মুতয়িম ইবনে আদি চুক্তিনামা ছিঁড়ে ফেলতে অগ্রসর হন। (নবীয়ে রহমত, পৃষ্ঠা ১৪৯)

আবু তালিব তখন পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি সবার উদ্দেশে বললেন, “আমার ভাতিজা জানিয়েছে, আল্লাহ বিশেষ পোকা পাঠিয়ে অঙ্গীকারনামা ধ্বংস করেছেন। সেখানে শুধু আল্লাহর নাম অবশিষ্ট আছে। দেখা গেল সেখানে শুধু ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ (হে আল্লাহ! আপনার নামে) অবশিষ্ট আছে।” (সিরাতে ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা ৯৮)

ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি কুরাইশের অন্যায় অবরোধের ১৬টি প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখ্য কয়েকটি হলো—১. স্বজনদের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ২. নিকটাত্মীয়দের ঈমান ও ইসলামের জন্য প্রস্তুত করার সুযোগ সৃষ্টি, ৩. ইসলাম ও মুসলমানের প্রতি আরবদের মনোযোগ আবদ্ধ করা, ৪. কুরাইশের অমানবিকতা প্রকাশ, ৫. পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, ৬. সত্যের পক্ষে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি, ৭. সত্যের বিজয় অবধারিত তা প্রমাণ করা। (আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৭)

গ্রন্থনা : আতাউর রহমান খসরু