kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

বৃদ্ধ ও সংকটাপন্ন রোগীর রোজা

মুফতি আবদুল্লাহ আল ফুআদ   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। ইসলামের যেকোনো বিধান পালনে শারীরিক অক্ষম, অসুস্থ ও শরিয়তসম্মত অপারগতার বিশেষ ছাড় আছে। আছে আমলের ক্ষতিপূরণেরও সুযোগ। আবশ্যিক বিধান রোজার ক্ষেত্রেও ইসলাম দুর্বল, বৃদ্ধ ও নিরাময়হীন অসুস্থ ব্যক্তির রোজার পরিবর্তে ক্ষতিপূরণের অনুমোদন দিয়েছে। ইসলামের পরিভাষায় যাকে ‘ফিদিয়া’ বলা হয়। এই ‘ফিদিয়া’ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যাদের রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর, তারা ফিদিয়া তথা একজন মিসকিনকে খাবার প্রদান করবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৪)

সাহাবায়ে কিরাম থেকেও ফিদিয়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাবেত বুনানি  (রহ.) বলেন, ‘আনাস ইবনে মালেক (রা.) যখন বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না, তখন তিনি রোজা না রেখে (ফিদিয়া) খাবার দান করতেন।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৫৭০)

ফিদিয়া আদায়ের বিধান

যেসব নারী-পুরুষ বার্ধক্যের কারণে দুর্বল বা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু অবস্থায় উপনীত হন, তাঁদের রোজা না রাখা বৈধ। তবে রোজার পরিবর্তে তাঁরা ফিদিয়া আদায় করবেন। ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ি ও আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে ‘ফিদিয়া’ আদায় করা ওয়াজিব। (কামুসুল ফিকহ : ৪/৪৫০)

রোজার ফিদিয়ার পরিমাণ

রোজার ফিদিয়া হচ্ছে, একজন মিসকিনকে দুই বেলা ভরপেট খাবার খাওয়ানো। তবে খাবারের পরিবর্তে রোজাপ্রতি সদকায়ে ফিতর পরিমাণ দ্রব্য বা মূল্য দিলেও ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে। সদকায়ে ফিতরের পরিমাপ হলো—এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম, আটা বা তার মূল্য অথবা তিন কেজি ২৭০ গ্রাম যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ বা তার মূল্য গরিবকে দান করা। (রদ্দুল মুহতার : ৫/১৪৪)

ফিদিয়া আদায়ের পর সুস্থ হলে করণীয়

ফিদিয়া আদায় করার পর সুস্থ হয়ে গেলে ভাঙা রোজা কাজা করতে হবে। আগের ফিদিয়া প্রদান যথেষ্ট হবে না। তবে ফিদিয়া আদায়ের কারণে তার সওয়াব আমলনামায় থেকে যাবে। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৬৫)

আর ছুটে যাওয়া রোজার কাজা আদায় না করতে পারলে মৃত্যুর আগে ফিদিয়া আদায়ের অসিয়ত করে যাওয়া জরুরি। (রদ্দুল মুহতার : ২/৪২৪-৪২৫, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৭)

ফিদিয়া আদায়ে অক্ষম হলে করণীয়

ফিদিয়া আদায় করার মতো কোনো সম্পদ না থাকলে তাওবা-ইস্তিগফার করবে। সেই সঙ্গে এই নিয়ত রাখা যে ‘আল্লাহ তাআলা সচ্ছলতা দান করলে ফিদিয়া আদায় করে দেব।’

অসচ্ছল অবস্থায়ই মারা গেলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। কারণ সাধ্যের বাইরে বান্দার ওপর আল্লাহ কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৪৯, আপকে মাসায়েল : ৪/৬০২)

আল্লাহ সব দুর্বল, বৃদ্ধ ও অসুস্থকে আরোগ্য দান করুন। সেই সঙ্গে যথাযথভাবে রোজার ফিদিয়া আদায়ের তাওফিক দান করুন।



সাতদিনের সেরা