kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

তুরস্কের স্বাধীনতাযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে মসজিদ

বেলায়েত হুসাইন   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তুরস্কের স্বাধীনতাযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে মসজিদ

তুরস্কের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলে নির্মিত হয়েছে মসজিদটি। নগরীর ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত স্বাধীনতার স্মৃতিধন্য ঐতিহাসিক তাকসিম স্কয়ারে সরকারি অর্থায়নে তা নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক সব সুবিধা রেখে উসমানীয় স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি মসজিদটি চলতি রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে তুর্কি সরকার। ২০১৭ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান মসজিদটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের উপযোগী করতে এখন চলছে শেষ সময়ের ঘষামাজার কাজ। বিখ্যাত আয়া সোফিয়া মসজিদের মতো এই মসজিদের দেয়ালগুলোতে অঙ্কিত হয়েছে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং ইসলামের প্রথম চার খলিফার নাম।

নকশা করেছেন তুরস্কের প্রসিদ্ধ দুই প্রকৌশলী শফিক বারকিয়া ও সালিম দালামান। দুই হাজার ৪৮২ বর্গমিটারের মসজিদটির উচ্চতা ৩০৩ মিটার। এখানে একসঙ্গে দুই হাজার ৫৭৫ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর তিনতলা আন্ডারগ্রাউন্ডে রাখা হয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা, তাতে অন্তত ১৬৫টি গাড়ি রাখা যাবে। তা ছাড়া ১৫৫ বর্গমিটারের একটি দর্শনীয় সাংস্কৃতিক হলরুমও আছে।

তাকসিম স্কয়ারে মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য প্রায় এক শ বছর আগে ১৯২৮ সালে আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা বীরদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।

স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়াও তাকসিম স্কয়ার আরো বেশ কিছু কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এখানে রয়েছে ইউরোপের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রেলস্টেশন, যা ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বছরের প্রায় সব ঋতুতেই তুর্কি এবং ভিনদেশি পর্যটকে মুখরিত তাকসিম স্কয়ার আধুনিক ইস্তাম্বুলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। তবে ‘তাকসিম’—এই আরবি নামে স্কয়ারটির নামকরণের কারণ হলো ১৭৩২ সালে সুলতান প্রথম মুহাম্মদের শাসনামলে শহরে পানিবণ্টনের জন্য একটি খাল খনন করা হয়েছিল। খালটি মিলিত হয়েছিল এখানে এসে, যা শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে। ফলে জায়গাটির নাম রাখা হয় ‘তাকসিম স্কয়ার’, বাংলায় যার অর্থ হয় বণ্টনের মাঠ।

সূত্র : টিআরটি আরবি ও তুর্কি ট্যুরস

 



সাতদিনের সেরা