kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

যে শহরে কেউ ক্ষুধার্ত থাকে না

বেলায়েত হুসাইন   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে শহরে কেউ ক্ষুধার্ত থাকে না

একাধিক নবী-রাসুলের স্মৃতিবিজড়িত ফিলিস্তিনের খলিল তথা হেবরন শহর। এটি খুব উন্নত কিংবা ধনী অধিবাসী অধ্যুষিত কোনো শহর নয়; যুদ্ধবিধ্বস্ত ভগ্নপ্রায় একটি শহর এটি। এর পরও এই শহরের গর্ব করার মতো এমন একটি বিষয় আছে, যা পৃথিবীর বহু সমৃদ্ধ শহরেরও নেই। ধারণা করা হয়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে এই শহরে কেউ ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত্রি যাপন করেনি।

নবী ইবরাহিম (আ.)-এর নামে গড়ে ওঠা এই শহরে তাঁকে অনুসরণ করে পাঁচ হাজার বছর আগে থেকে স্থানীয় দরিদ্রদের খাবার বিতরণ শুরু হয়।

কেননা ইবরাহিম (আ.) প্রতি বেলায়ই মেহমান সঙ্গে নিয়ে খাবার খেতেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় ১২৭৯ সালে। তখন ফিলিস্তিন সালাহুদ্দিন আইয়ুবির শাসনাধীন হয়। বিশিষ্ট দানবীর সুলতান কালুন সালেহি (রহ.) আত-তাকিয়াতুল ইবরাহিমি নামে একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই মহৎ কাজে গতি আনেন এবং সংস্থাটি আজও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় দৈনিক পাঁচ শ থেকে তিন হাজার মানুষকে আহার করায়।

রমজান মাস এলে খাবার বিতরণ কার্যক্রম ভিন্ন আমেজ ও উৎসবে রূপ নেয়। গম গুঁড়া ও গোশতের মিশ্রণে তৈরি ফিলিস্তিনের বিশেষ খাবার খেতে মসজিদে ইবরাহিমিতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষজন ছুটে আসে। আগতদের বিশ্রামের জন্য মসজিদের অদূরে মুসাফিরখানা ও বিশ্রামাগার আছে। মসজিদ সংস্কার ও পরিবর্ধনের পর মুসাফিরখানাও যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। আত-তাকিয়াতুল ইবরাহিমির পরিচালক লুয়ু আল খতিব জানান, মুসাফিরখানাটি আগে মসজিদসংলগ্ন ছিল, তবে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বর্তমানের অবস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগের দিনে খাবার বিতরণের আগে বিশেষ বাদ্যযন্ত্র বাজানো হতো এবং তার শব্দ শুনে মানুষ খাবার নিতে আসত।

সংস্থাটির প্রধান কার্যনির্বাহী আতায়া আল জাবরানি বলেন, ‘রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের কাজের চাপ বেড়ে গেছে। আমাদের সংস্থা এখন খলিলের বাইরেও খাবার বিতরণ করে। এ জন্য ফজর নামাজের পর থেকেই আমাদের কাজ শুরু করতে হয়। কেননা রমজানে আমরা বহু মানুষের খাবারের আয়োজন করছি। রমজানের বাইরেও আমরা তিন বেলা খাবার পরিবেশন করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘করানা মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মানুষের খাদ্য-চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরাও আগের চেয়ে দ্বিগুণ খাদ্য সরবরাহ করছি। প্রতিদিনের রান্নায় আমরা ১০০০ থেকে ১২০০ কেজি মুরগি ব্যয় করি। রমজানে ধনী-গরিব, মুসলিম-অমুসলিম—সবাইকে খাবার দেওয়া হয় এবং তারা ইচ্ছা করলে পরিবারের জন্যও খাবার নিয়ে যেতে পারে। কেননা আমাদের সংস্থার মূল লক্ষ্য—কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে।

সূত্র : আলজাজিরা মুবাশির