kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

নবীজি সাহাবিদের যেসব উপাধি দিয়েছিলেন

আতাউর রহমান খসরু   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নবীজি সাহাবিদের যেসব উপাধি দিয়েছিলেন

নবী কারিম (সা.) নবুয়তের দীর্ঘ সময়ে একাধিক সাহাবিকে উপাধি দিয়েছেন। উপাধিগুলো তাদের মেধা, প্রতিভা, মানসিক প্রবণতা ও ইসলামের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের দিকগুলো স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে নবীজি (সা.)-এর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। ইতিহাসের উত্থান ও পতন, ইসলামের প্রচার ও প্রসারে মহানবী (সা.) যে সংগ্রাম ও সাধনার পথ পারি দিয়েছেন তাতে সাহাবিরা এমনভাবে নিজেদের নিবেদন করেছিলেন, যেমন পতঙ্গ অগ্নস্ফুিলিঙ্গের চারপাশে একত্র হয় এবং আত্মোৎসর্গ করে। মহানবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে প্রদত্ত উপাধিগুলো ছিল তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি ও প্রাথমিক পুরস্কার। এসব উপাধি দিয়েছেন এবং তাদের যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন তা মুসলিম সভ্যতা ও ইতিহাসের অংশ।

 

যাঁরা যে উপাধি পেয়েছেন

রাসুল (সা.)-এর উপাধিপ্রাপ্ত সাহাবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—

সিদ্দিক : রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজ থেকে ফিরে যখন মানুষকে ঘটনার বিবরণ শোনান, তখন মক্কার মুশরিকরা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা শুরু করে এবং তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। তারা আবু বকর (রা.)-কে ঘটনার বিবরণ শোনায় যেন তিনি মুহাম্মদ (সা.) থেকে বিমুখ হন। কিন্তু সব শুনে তিনি বলেন, মুহাম্মদ (সা.) যা বলেছেন, সত্য বলেছেন। মহানবী (সা.) তখন তাঁকে ‘সিদ্দিক’ (সত্যায়নকারী) উপাধি দেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি ‘সিদ্দিকে আকবর’ নামে খ্যাত।

ফারুক : রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ, ওমর ইবনুল খাত্তাব ও ওমর ইবনুল হিশামের মধ্যে যাকে আপনার পছন্দ হয় তার মাধ্যমে আপনি ইসলামকে শক্তিশালী করুন।’ আল্লাহ ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে কবুল করেন। ইসলাম গ্রহণের পর ওমর (রা.)-এর অনুরোধে রাসুলুল্লাহ (সা.)সহ মুসলিমরা দুই কাতারে সারিবদ্ধ হয়ে মক্কা প্রদক্ষিণ করে, কাবা চত্বরে প্রকাশ্যে নামাজ আদায় করতে সাহস পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন তাঁকে ‘ফারুক’ (সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী) উপাধী দেন।

সাইয়েদুশ-শুহাদা : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে মুসলিম হন হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.)। মক্কার দুর্বিষহ জীবনে তিনি ছিলেন নবীজি (সা.)-এর বড় শক্তি। উহুদের যুদ্ধে তিনি শহীদ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে সাইয়েদুশ-শুহাদা (শহীদদের সর্দার) উপাধি দান করেন।

জাতুন-নিতাকাইন : মদিনায় হিজরতের সময় আবু বকর (রা.) মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে ‘গারে সুরে’ আশ্রয় নেন। তাঁর কন্যা আসমা (রা.) তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসেন। কিন্তু খাবারের থলেটি বাহনের পিঠে ঝুলিয়ে রাখার জন্য যে রশির প্রয়োজন হয় তা আনতে ভুলে যান। তখন তিনি পায়জামার রশির কিছু অংশ কেটে থলে ঝোলানোর জন্য দেন। এই বুদ্ধিদীপ্ত কাজ দেখে মহানবী (সা.) তাঁকে ‘জাতুন-নিতাকাইন’ (দুই রশির অধিকারী) উপাধি দেন।

আমিনু হাজিহিল উম্মাহ : নাজরানের খ্রিস্টান প্রতিনিধিদল যখন রাসুল (সা.)-এর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং ‘খিরাজ’ (ভূমিকর) দিতে সম্মত হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.)-কে ‘খিরাজ’ আদায় করতে পাঠান এবং তাঁর ব্যাপারে বলেন, ‘আমিনু হাজিহিল উম্মাহ’ (এই জাতির বিশ্বস্ত ব্যক্তি)।

আবু তুরাব : একদিন আলী (রা.) মসজিদের মাটিতে শুয়ে ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে এ অবস্থায় দেখে বলেন, ‘আবু তুরাব’ (মাটির বাবা) উঠো। এভাবে ‘আবু তুরাব’ আলী (রা.)-এর উপাধিতে পরিণত হয়।

সাইয়িদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ছোট মেয়ে ফাতেমা (রা.)-এর উপাধি ‘সাইয়িদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ’ (জান্নাতি নারীদের প্রধান)।

সাইয়িদা শাবাবি আহলিল জান্নাহ : নবী (সা.)-এর দুই নাতি হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর উপাধি ‘সাইয়িদা শাবাবি আহলিল জান্নাহ’ (জান্নাতি যুবকদের দুই নেতা)।

উম্মুল মুমিনিন : সাধারণভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সব স্ত্রীকে ‘উম্মুল মুমিনিন’ (মুমিনদের মা) বলা হয়।

তায়্যার : মুতার যুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করে শহীদ হন জাফর আবি তালিব (রা.)। নবী (সা.) জানতে পারেন তিনি ফেরেশতাদের মতো ডানা দিয়ে উড়ছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ‘তায়্যার’ (পাখি) উপাধি দেন।

সাইফুল্লাহ : মুতার যুদ্ধে তিনজন সেনাপতি শহীদ হওয়ার পর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) সেনাপতি নির্বাচিত হন এবং বিশেষ বীরত্ব, সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘটনার বিবরণ শুনে তার সম্পর্কে বলেন, ‘সাইফুন মিন শুয়ুফিল্লাহ’ (আল্লাহর তলোয়ারগুলোর একটি)।

 

তথ্যসূত্র : তামিরে হায়াত, ১ম সংখ্যা,  সেপ্টম্বর-২০০৩।