kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

কোরআনের উপমায় খেজুরের কয়েক অংশ

এইচ এম মুহিব্বুল্লাহ   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামনে রমজান। বাহারি খেজুরের পসরা থাকে আমাদের ইফতারির টেবিলে। আজ আমরা খেজুরের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হব। পবিত্র কোরআনে খেজুরের আরবি ‘ত্বলউন’ ও ‘রুত্বাবুন’ একবার করে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে খেজুরগাছের উপমা কোরআন ও হাদিসে বহুবার এসেছে। এবার খেজুর নিয়ে তিনটি শব্দের ও আয়াতের সঙ্গে মিলিয়ে নেব, ইনশাআল্লাহ।

১. নাকির : আমরা খেজুর খাই, কিন্তু ‘নাকির’ চিনি না। খেজুরের আঁটির পিঠে থাকা সূক্ষ্ম একটি বিন্দু আছে, এর নাম ‘নাকির’। কত সূক্ষ্ম বিষয় কোরআন আমাদের শিখিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “যে পুরুষ কিংবা নারী কোনো সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রাপ্য ‘নাকির’ পরিমাণও নষ্ট করা হবে না।” (সুরা নিসা, আয়াত : ১২৪)

আলোচ্য আয়াতে ‘নাকির’ বলতে খেজুরের বিচির পিঠের ছোট্ট সেই বিন্দুকে বোঝানো হয়েছে।

২. ফাতিল : খেজুরের বিচির পেটের কাটা অংশে যে পাতলা সুতা দেখা যায় তাকে ‘ফাতিল’ বলা হয়। এমন সূক্ষ্ম জিনিস দ্বারা আল্লাহ পরকালে আমলনামা হাতে দেওয়ার বিষয়ে কোরআনে বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “স্মরণ করো, যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের নেতাসহ আহ্বান করব, অতঃপর যাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি ‘ফাতিল’ পরিমাণও জুলুম করা হবে না।” (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭১)

আলোচ্য আয়াতে ‘ফাতিল’ বলে খেজুরের আঁটির কাটা অংশের সেই সুতাকে বোঝানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ধর্মীয় জীবনে আমরা নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেমন নেতা নির্বাচন করব—সেই বিষয়ে সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। আর হাশরের মাঠে আল্লাহর বিচারের ধরন কতটা স্বচ্ছ হবে—তার একটি উদাহরণ এ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

৩. কিতমির : খেজুরের বিচির ওপরে থাকা পাতলা আবরণকে ‘কিতমির’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, “তিনি (আল্লাহ) রাত্রিকে দিবসে এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা, (সব) সাম্রাজ্য তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদের ডাকো, তারা ‘কিতমিরের’ও অধিকারী নয়।” (সুরা ফাতির, আয়াত : ১৩)

আলোচ্য আয়াতে ‘কিতমির’ বলে খেজুরের আঁটির ওপরের পাতলা আবরণকে বোঝানো হয়েছে। সেই সঙ্গে যারা মহান রবের প্রভুত্বকে স্বীকার করে না ও যাদের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের ক্ষমতার পরিধি কতটা হালকা তা সুন্দর ও যুক্তিযুক্ত শব্দ দিয়ে বোঝানো হয়েছে।

লেখক : পিএইচডি গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।